প্রিন্ট এর তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৬
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে সংস্কার জোরদার, প্রশাসন ও পুলিশে অবসর-নজরদারি অব্যাহত
মো: পলাশ পাঠান তুষার, স্টাফ রিপোর্টার ||
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে আরও
জবাবদিহিমূলক ও
রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার
লক্ষ্য
সামনে
রেখে
প্রশাসন ও
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে ধারাবাহিক পুনর্বিন্যাস ও
সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে
যাচ্ছে
সরকার।
সরকারি
সূত্রগুলোর ভাষ্য,
প্রশাসনিক সংস্কার, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ এবং
অতীতের
বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার
মাধ্যমে একটি
নিরপেক্ষ প্রশাসনিক কাঠামো
গড়ে
তোলাই
এই
উদ্যোগের উদ্দেশ্য।সম্প্রতি সরকার
২০১৮
সালের
জাতীয়
নির্বাচনের সময়
জেলা
প্রশাসক ও
রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন
করা
৩২
জন
বর্তমান যুগ্ম
সচিবকে
সরকারি
চাকরি
আইন
অনুযায়ী বাধ্যতামূলক অবসরে
পাঠিয়েছে। এর
আগে
একই
প্রক্রিয়ায় আরও
২২
জন
সাবেক
জেলা
প্রশাসক অবসরে
যান।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য
অনুযায়ী, ২০১৪,
২০১৮
ও
২০২৪
সালের
জাতীয়
নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের ভূমিকা
ধাপে
ধাপে
পর্যালোচনা করা
হচ্ছে।পুলিশ প্রশাসনেও একই
সময়ে
বড়
ধরনের
পুনর্বিন্যাস হয়েছে।
গত
পাঁচ
মাসে
তিন
দফায়
ডিআইজি,
অতিরিক্ত ডিআইজি
ও
পুলিশ
সুপার
পদমর্যাদার মোট
৮০
জন
জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে জনস্বার্থে বাধ্যতামূলক অবসরে
পাঠানো
হয়েছে।
সরকারের দাবি,
পুলিশকে আরও
পেশাদার, নিরপেক্ষ ও
জনগণমুখী করতেই
এই
পদক্ষেপ নেওয়া
হয়েছে।এদিকে সরকারের তথ্য
উপদেষ্টা জাহেদ
উর
রহমান
বলেছেন,
২০১৮
সালের
নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের
কারণে
কাউকে
অবসরে
পাঠানো
হয়েছে—সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এমন
বক্তব্য দেয়নি।
তবে
তিনি
ওই
নির্বাচনকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের একটি
গুরুতর
বিতর্কিত অধ্যায়
উল্লেখ
করে
নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা
বলেন।জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল
বারী
সংসদে
জানিয়েছেন, অতীত
সরকারের সময়ে
প্রশাসনে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ভূমিকা
পালনকারী কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করতে
তদন্ত
চলছে
এবং
তদন্ত
শেষে
প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া
হবে।এ ছাড়া
প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে
দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ডও পর্যবেক্ষণে রাখা
হয়েছে
বলে
সরকারি
সূত্র
জানিয়েছে। একই
সঙ্গে
জুলাই-আগস্টের আন্দোলন, পুরোনো আলোচিত হত্যা
ও
গুমের
ঘটনায়
তদন্ত
এবং
বিচারিক প্রক্রিয়াও এগিয়ে
নেওয়া
হচ্ছে।
সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের
দাবি,
প্রশাসনিক সংস্কার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পুনর্বিন্যাস এবং
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি নিশ্চিত করার
মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে একটি
কার্যকর, নিরপেক্ষ ও
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এসব
উদ্যোগ
বাস্তবায়ন করা
হচ্ছে।
কপিরাইট © ২০২৬ Ctn Tv । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত