প্রিন্ট এর তারিখ : ০৬ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ আগস্ট ২০২৬
বটিবন্দে জমি বিরোধে উত্তপ্ত পরিস্থিতি
দুলাল সরকার, স্টাফ রিপোর্টার ||
নরসিংদীর বেলাবো
উপজেলার বটিবন্দ গ্রামে জমির সীমানায় লাগানো
কড়ই গাছকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধ
নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
প্রবাসী সুজন মিয়ার পরিবারের
অভিযোগ, কম দামে জমি
বিক্রি করতে রাজি না
হওয়ায় প্রতিবেশীরা জমির আইলে বড়
বড় কড়ই গাছ লাগিয়ে
ফসল চাষে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি
করেছেন। পরে গাছের ডাল
কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের
মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা
দেখা দেয়।প্রবাসী সুজন
মিয়ার স্ত্রী হাসিনা আক্তার জানান, জমির ওপর গাছের
ঘন ছায়া পড়ায় দীর্ঘদিন
ধরে সেখানে ফসল উৎপাদন করা
সম্ভব হচ্ছে না। এ ঘটনায়
তিনি বেলাবো থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।অভিযোগের পর
তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয় ইউনিয়ন
পরিষদের সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের
উপস্থিতিতে গাছের ডাল ছাঁটাইয়ের উদ্যোগ
নেওয়ার পরামর্শ দেন। সেই অনুযায়ী
কয়েকদিন আগে স্থানীয় ব্যক্তি
মানিক মিয়া ও অন্যদের
উপস্থিতিতে আটটি গাছের মধ্যে
দুটি গাছের ডাল কাটার কাজ
শুরু হয়। তবে এ
সময় কাইয়ুম মিয়া ঘটনাস্থলে এসে
আপত্তি জানান এবং কাজ বন্ধ
হয়ে যায় বলে অভিযোগ
করা হয়েছে।সুজন মিয়ার
পরিবারের ভাষ্য, প্রায় ১৫ বছর আগে
জমিটির মালিক ছিলেন গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা ও তাঁর দুই
মেয়ে। তাঁদের অভিযোগ, ওই সময় জমিটি
কম দামে কিনতে চাপ
সৃষ্টি করতে প্রতিবেশী কাইয়ুম
মিয়া ও সেলিম মিয়া
জমির আইলে কয়েকটি কড়ই
গাছ রোপণ করেন। সময়ের
সঙ্গে গাছ বড় হয়ে
জমির ওপর ছায়া ফেলায়
কৃষিকাজ ব্যাহত হতে থাকে। পরে
রোজিনা ও তাঁর দুই
মেয়ে জমিটি ন্যায্য মূল্যে প্রবাসী সুজন মিয়ার কাছে
বিক্রি করেন।পরিবারটির আরও
অভিযোগ, জমি কেনার সময়
কাইয়ুম মিয়া স্থানীয় প্রভাবশালীদের
মাধ্যমে এক লাখ টাকা
দাবি করেন। পরে সমঝোতার ভিত্তিতে
৩০ হাজার টাকা দেওয়া হলেও
বিরোধের অবসান হয়নি। বর্তমানে গাছের কারণে জমিতে ফসল উৎপাদন সম্ভব
হচ্ছে না বলে দাবি
তাদের।হাসিনা আক্তার
আরও অভিযোগ করেন, গাছের ডাল কাটার ঘটনার
পর তাঁকে চাকরি হারানোর হুমকি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কাইয়ুম
মিয়ার প্রবাসী ভাই সেলিম মিয়া
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে
তাঁর স্বামীকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর ছবি
তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে
ছড়িয়ে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন
তিনি। এ ঘটনায় কাইয়ুম
মিয়া, তাঁর ভাই সেলিম
মিয়া ও কাইয়ুমের স্ত্রী
পুষ্পর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান হাসিনা।স্থানীয় গণ্যমান্য
ব্যক্তি মানিক মিয়া বলেন, থানার
অনুরোধে তিনি ও ইউপি
সদস্য আক্তারুজ্জামান বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেন। তাঁদের উপস্থিতিতে
দুটি গাছের ডাল কাটা হলেও
পরে কাইয়ুম মিয়া ও তাঁর
স্ত্রী এসে আপত্তি জানালে
কাজ বন্ধ করে দেওয়া
হয়।গাছের ডাল
কাটার কাজে নিয়োজিত শ্রমিক
শামীম মিয়া বলেন, স্থানীয়দের
অনুরোধে তিনি কাজ শুরু
করেছিলেন। দুটি গাছের ডাল
কাটার পর বিরোধ দেখা
দিলে তিনি কাজ বন্ধ
করে চলে যান।স্থানীয় ইউপি
সদস্য আক্তারুজ্জামান আক্তার বলেন, গাছের ডাল কাটার সময়
তাঁর উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও পরে
তাঁকে ছাড়াই কাজ করা হয়েছে।অভিযোগের বিষয়ে
বক্তব্য জানতে কাইয়ুম মিয়ার বাড়িতে গেলেও তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে
কথা বলতে রাজি হননি।
পরে তাঁর ব্যক্তিগত মুঠোফোনে
একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি
ফোন ধরেননি।বেলাবো
থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও তদন্তকারী কর্মকর্তা
সুব্রত দাস বলেন, প্রায়
ছয় মাস আগে জমিতে
গাছের ছায়ার কারণে ফসল ফলাতে না
পারার অভিযোগে থানায় লিখিত আবেদন করা হয়। অভিযোগ
পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন
করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের
মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে কয়েকটি
গাছের ডাল ছাঁটাই করা
হয়েছে বলে তিনি জানতে
পেরেছেন। তিনি বলেন, বিরোধ
নিষ্পত্তির জন্য উভয় পক্ষকে
একাধিকবার থানায় ডাকা হয়েছে এবং
আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা চলছে।
কপিরাইট © ২০২৬ Ctn Tv । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত