প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬
নেপালে তিব্বত থেকে নেমে আসা ঢল-ভূমিধসে ভয়াবহ বিপর্যয়, ক্ষতি ২০০ বিলিয়ন রুপি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
নেপালের রাসুয়া
জেলায়
তিব্বতের দিক
থেকে
নেমে
আসা
বিপুল
পানির
স্রোত
ও
ভূমিধসে ভয়াবহ
পরিস্থিতির সৃষ্টি
হয়েছে।
এর
প্রভাবে রাসুয়া
ছাড়াও
নুয়াকোট, ধাদিং
ও
চিতওয়ান জেলার
বিভিন্ন এলাকায়
ব্যাপক
ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
প্রাথমিক হিসাবে
শুধু
অবকাঠামো খাতেই
ক্ষতির
পরিমাণ
প্রায়
২০০
বিলিয়ন
নেপালি
রুপি
বলে
জানিয়েছে দেশটির
সরকার।বুধবার (২৬
আগস্ট)
সকালে
আকস্মিক এই
পাহাড়ি
ঢল
ও
ভূমিধসে বিপর্যয় শুরু
হয়।
তিব্বতের দিক
থেকে
ভোতে
কোশী
নদী
দিয়ে
হঠাৎ
বিপুল
পানি
নেমে
আসায়
অল্প
সময়ের
মধ্যেই
নদীসংলগ্ন এলাকাগুলো প্লাবিত হয়ে
পড়ে।রাসুয়া জেলার
গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন
ও
ট্রেকিংকেন্দ্র স্যাব্রুবেসি ও
তিমুরে
বাজারও
এই
দুর্যোগে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পানির
প্রবল
স্রোতে
হোটেল,
রিসোর্ট ও
স্থানীয় দোকানপাট ধসে
নদীতে
তলিয়ে
গেছে।স্থানীয় বিভিন্ন এলাকায়
কাদামাটি ও
পানির
স্রোত
দুই
থেকে
তিনতলা
ভবনের
সমান
উচ্চতায় উঠে
যায়।
এর
সঙ্গে
বড়
বড়
পাথর
ও
উপড়ে
যাওয়া
গাছের
গুঁড়ি
নেমে
আসে।
এতে
বহু
বসতবাড়ি ধ্বংসস্তূপের নিচে
চাপা
পড়েছে
বলে
জানা
গেছে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে
পড়া
বিভিন্ন ভিডিওতে জিরোং
পোর্ট
চেকপয়েন্ট এলাকায়
মুহূর্তের মধ্যে
পাহাড়
ধসে
পড়তে
দেখা
গেছে।
এ
সময়
প্রাণ
বাঁচাতে মানুষকে ছোটাছুটি করতে
দেখা
যায়।
কিছুক্ষণের মধ্যেই
পুরো
এলাকা
কাদা
ও
ধ্বংসস্তূপে ঢেকে
যায়।
তবে
এসব
ভিডিওর
সত্যতা
স্বাধীনভাবে যাচাই
করা
সম্ভব
হয়নি।প্রাথমিক স্যাটেলাইট বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তিব্বত-রাসুয়াগড়ি সীমান্ত এলাকার প্রায় ২০
কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে নেপাল-তিব্বত
সীমান্তসংলগ্ন একটি
অস্থিতিশীল পার্বত্য শিলাখণ্ডে ভূমিধসের ঘটনা
ঘটে।
ধারণা
করা
হচ্ছে,
ওই
ভূমিধস
থেকেই
আকস্মিক বন্যার
সূত্রপাত হয়।নেপালের জাতীয়
দুর্যোগ ঝুঁকি
হ্রাস
ও
ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিধসের পাশাপাশি নেপাল-তিব্বত সীমান্তে লেন্ডে
নদীর
পানিও
হঠাৎ
বেড়ে
যায়।
পরে
সেই
পানি
তিমুরে
এলাকায়
ভোতে
কোশী
নদী
হয়ে
ত্রিশূলী নদীতে
প্রবেশ
করে।দেশটির জলবিজ্ঞান ও
আবহাওয়া বিভাগ
জানিয়েছে, রাসুয়ায় স্থানীয় বৃষ্টিপাতের কারণে
এই
বন্যা
হয়নি।
বরং
উজানের
পার্বত্য অঞ্চল
থেকে
হঠাৎ
নেমে
আসা
বিপুল
পানি
ও
ভূমিধসের কারণেই
এই
বিপর্যয় ঘটেছে।নেপালের ভৌত
অবকাঠামোমন্ত্রী সুনীল
লামসাল
বলেন,
প্রাথমিক তথ্য
অনুযায়ী শুধু
অবকাঠামো খাতেই
প্রায়
২০০
বিলিয়ন
নেপালি
রুপির
ক্ষতি
হয়েছে।
এর
মধ্যে
সবচেয়ে
বেশি
ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে
সড়ক
ও
সেতু।তিনি জানান,
ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগব্যবস্থা দ্রুত
সচল
করা
এবং
বিধ্বস্ত সড়ক
ও
সেতু
পুনর্নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেবে
সরকার।কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ প্রাথমিক হিসাবে,
এই
দুর্যোগে এখন
পর্যন্ত অন্তত
৯৫
জনের
মৃত্যুর খবর
পাওয়া
গেছে।
বন্যাকবলিত ও
দুর্গম
এলাকায়
উদ্ধার
ও
তল্লাশি অভিযান
অব্যাহত রয়েছে।
ফলে
হতাহত
মানুষের সংখ্যা
আরও
বাড়তে
পারে
বলে
আশঙ্কা
করা
হচ্ছে।বাংলাদেশে উজান
থেকে
পাহাড়ি
এলাকায়
হঠাৎ
বিপুল
পানি
নেমে
এলে
সাধারণত তাকে
পাহাড়ি
ঢল
বলা
হয়।
নেপালের এবারের
দুর্যোগের সঙ্গেও
এর
মিল
রয়েছে।
তবে
তিব্বতের উঁচু
পার্বত্য অঞ্চল
থেকে
নেমে
আসা
বিপুল
পানির
স্রোতের সঙ্গে
ভূমিধস
যুক্ত
হওয়ায়
পরিস্থিতি আরও
ভয়াবহ
হয়ে
ওঠে।
কপিরাইট © ২০২৬ Ctn Tv । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত