প্রিন্ট এর তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কম খরচে আনারকলি চাষে সাফল্য, দুই বিঘায় ১৫ লাখ টাকার আশা কৃষকের
জেলা প্রতিনিধি ||
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায়
কম খরচে বিদেশি ফল
আনারকলির চাষ করে সাফল্য
পেয়েছেন কৃষক মশিউর রহমান
মিলন। পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করে ভালো
ফলন পাওয়ার পর এবার দুই
বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে ফলটির চাষ করেছেন তিনি।
বর্তমান ফলন ও বাজারদর
ঠিক থাকলে মৌসুম শেষে প্রায় ১৫
লাখ টাকার ফল বিক্রির আশা
করছেন এই কৃষক।ভেড়ামারা উপজেলার
ধরমপুর ইউনিয়নের নবগঙ্গা দক্ষিণপাড়া গ্রামের কৃষক মশিউর রহমান
মিলন। তাঁর বাগানে লতানো
গাছের সবুজ পাতার মধ্যে
ঝুলছে সবুজ রঙের আনারকলি।
দক্ষিণ আমেরিকার উষ্ণ অঞ্চলের এই
ফলটি অনেক জায়গায় প্যাশন
ফ্রুট বা ট্যাংক ফল
নামেও পরিচিত।মশিউর রহমান
জানান, চারা লাগানোর প্রায়
আট মাস পর গাছে
ফল আসতে শুরু করে।
তবে এর বিশেষত্ব হলো,
সারা বছরই ফলন পাওয়া
যায়। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক
ছাড়াই শুধু জৈব সার
ব্যবহার করে ফলটি চাষ
করা সম্ভব বলে জানান তিনি।কৃষক মশিউর
রহমান বলেন, জলবায়ু সহনশীল এবং টক-মিষ্টি
স্বাদের এই ফল চাষে
খরচ তুলনামূলক কম। রোগবালাইও কম
হওয়ায় আশপাশের কৃষকদের মধ্যে এ ফল চাষে
আগ্রহ বাড়ছে। কৃষি বিভাগ থেকে
ক্ষুদ্র কৃষি উদ্যোক্তারা সহযোগিতা
পেলে আরও ভালোভাবে এগিয়ে
যেতে পারবেন বলেও জানান তিনি।কৃষক পরিবারে
বেড়ে ওঠা মশিউর রহমান
ছোটবেলা থেকেই কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর বাবা ও
দাদারাও কৃষক ছিলেন। কৃষিই
তাঁদের পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস।মশিউর রহমান
জানান, গত বছর ঝিনাইদহের
মহেশপুরে স্টালিন নামের এক কৃষকের বাগানে
প্রথম আনারকলি চাষ দেখেন তিনি।
পরে সেখান থেকে চারা সংগ্রহ
করে নিজের জমিতে চাষের উদ্যোগ নেন। দুই বিঘা
জমিতে চারা রোপণের পর
অল্প সময়ের মধ্যেই গাছে নতুন পাতা
গজাতে শুরু করে। লতাগুলো
দ্রুত বড় হয়ে উঠলে
তিনি মাচা তৈরি করে
দেন।চারা রোপণের
প্রায় আট মাসের মধ্যেই
গাছে ফুল আসে এবং
পরে ফল ধরতে শুরু
করে। বর্তমানে সেই বাগানের ফল
পাকতে শুরু করেছে।মশিউর রহমানের
হিসাব অনুযায়ী, দুই বিঘা জমিতে
আনারকলির বাগান করতে এখন পর্যন্ত
প্রায় ১ লাখ ৮০
হাজার টাকা খরচ হয়েছে।
ফলন ও বাজারদর ভালো
থাকলে মৌসুম শেষে প্রায় ১৫
লাখ টাকার ফল বিক্রি হতে
পারে বলে আশা করছেন
তিনি।নতুন এ
ফলের বাগান দেখতে প্রতিদিনই আশপাশের মানুষ আসছেন। ফলটির চাষ ও ফলন
দেখে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হচ্ছে।
ভেড়ামারা
উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সদরুল
ইসলাম জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকায় ফলটি আনারমলি, প্যাশন
ফ্রুট বা ট্যাং ফল
নামে পরিচিত। ভেড়ামারায় এর বাণিজ্যিক চাষ
তুলনামূলক নতুন হলেও চলতি
মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন জমিতে কৃষকেরা ফলটির বাণিজ্যিক চাষ শুরু করেছেন।
কপিরাইট © ২০২৬ Ctn Tv । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত