গুলশান (দক্ষিণ) বাণিজ্যিক এলাকার ১৪, ৩৭, ৪১ ও ৪৩ নম্বর প্লট ১৯৭৫ সালে ৯৯ বছরের জন্য ‘বাণীচিত্র’ ও ‘চলচ্চিত্র’ নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। বরাদ্দের অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল, এসব জমিতে সিনেমা হল নির্মাণ করতে হবে। অন্য কোনো কাজে জমিগুলো ব্যবহার করার সুযোগ ছিল না।
তবে প্রায় পাঁচ দশকেও সেখানে সিনেমা হল নির্মাণ হয়নি। পরে আম-মোক্তারনামার মাধ্যমে প্লটগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয় শান্তা হোল্ডিংস। ২০২৩ সালের ১৬ জুলাই প্রতিষ্ঠানটি চারটি প্লট একীভূত করার আবেদন করে। বড় আকারের বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের উদ্দেশ্যেই এ আবেদন করা হয়।
চারটি প্লট একীভূত করার আবেদনটি রাজউকের বিভিন্ন শাখায় দীর্ঘদিন ঘুরেছে। নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, আম-মোক্তারনামা নিয়ে বিরোধ, আদালতের নির্দেশ এবং প্লটের ব্যবহার পরিবর্তনের বিষয়সহ বিভিন্ন আইনি জটিলতা নিয়ে রাজউকের কর্মকর্তাদের আপত্তি ছিল।
রাজউকের একাধিক সূত্রের দাবি, শুরু থেকেই শান্তার এই ফাইল নিয়ে চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলামের বিশেষ আগ্রহ ছিল। কর্মকর্তাদের আপত্তি সত্ত্বেও ফাইলটি এগিয়ে নিতে ওপরের মহল থেকে তৎপরতা ছিল বলেও সূত্রগুলো জানিয়েছে।
রাজউকের কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ফাইলটি পাস করিয়ে নিতে শান্তা হোল্ডিংস রাজউক ভবনে অন্তত অর্ধশত কোটি টাকা খরচ করেছে। তবে এ দাবির স্বাধীন কোনো প্রমাণ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
নথি অনুযায়ী, ২১ জুলাই চারটি প্লট একীভূত করার অনুমোদনপত্র জারি এবং প্রয়োজনীয় ফি গ্রহণে আইনগত বাধা আছে কি না, সে বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইমাম হাছানের মতামত চায় রাজউক। জবাবে তিনি জানান, এতে আইনগত বাধা নেই।
এর পরদিন, ২২ জুলাই, রাজউক চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম অনুমতিপত্র জারির নির্দেশ দেন। একই দিনে চারটি প্লট একীভূত করার ফি জমা দেওয়ার অনুমোদনপত্রও জারি করা হয়। এতে স্বাক্ষর করেন রাজউকের উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-১) মো. নজরুল ইসলাম এবং সহকারী পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) মো. আশরাফ আলী।
চারটি প্লটের মোট আয়তন প্রায় ২২ বিঘা ১৮ কাঠা। এ জমির বিপরীতে একীভূতকরণ ফি রাজউক কোষাগারে জমা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে শান্তা হোল্ডিংস।
রাজউকের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আইনগত বিষয়ে মতামতের জন্য সংস্থাটির নিজস্ব আইন শাখা রয়েছে। কোনো আবেদনে আইনি জটিলতা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে তা আইন শাখায় পাঠিয়ে মতামত নেওয়ার পর প্রশাসনিক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। এরপর বিষয়টি বোর্ড সভায় উপস্থাপনেরও বিধান রয়েছে।
তবে শান্তা হোল্ডিংসের ক্ষেত্রে এ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট এস্টেট ও ভূমি-১ শাখার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মাসুম আলী বেগ লিখিতভাবে আপত্তি জানানোর পরও বিষয়টি বোর্ড সভায় তোলা হয়নি। বরং একজন বেসরকারি আইনজীবীর মতামতের ভিত্তিতে অনুমোদনপত্র জারি করা হয়েছে।
চারটি প্লট একীভূত হওয়ায় সেখানে বড় আকারের বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর ফলে পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা গুলশানের বাসিন্দাদের জন্য নির্ধারিত বিনোদন সুবিধা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শান্তা হোল্ডিংসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ভবনটির উচ্চতা ৩৫ থেকে ৪০ তলার বেশি হতে পারে। প্রতি তলায় প্রায় ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার বর্গফুট জায়গা থাকবে। শুরুতে প্রতি বর্গফুটের দাম ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা ধরা হলে প্রকল্পটির সম্ভাব্য মোট বাণিজ্যিক মূল্য দাঁড়াতে পারে হাজার কোটি টাকার বেশি।
রাজউকের পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-১) ডা. মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন বলেন, অনুমোদনপত্র জারি করার জন্য কে কী করেছে, তা ফাইলেই লেখা আছে। কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের বাইরে আমি কোনো মন্তব্য করতে পারবো না।
অভিযোগের বিষয়ে রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সিজেডএন টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এখানে কোনো কিছু ব্যক্তিগত না। আইনগত উপায়ে সবকিছু করা হয়েছে।

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গুলশান (দক্ষিণ) বাণিজ্যিক এলাকার ১৪, ৩৭, ৪১ ও ৪৩ নম্বর প্লট ১৯৭৫ সালে ৯৯ বছরের জন্য ‘বাণীচিত্র’ ও ‘চলচ্চিত্র’ নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। বরাদ্দের অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল, এসব জমিতে সিনেমা হল নির্মাণ করতে হবে। অন্য কোনো কাজে জমিগুলো ব্যবহার করার সুযোগ ছিল না।
তবে প্রায় পাঁচ দশকেও সেখানে সিনেমা হল নির্মাণ হয়নি। পরে আম-মোক্তারনামার মাধ্যমে প্লটগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয় শান্তা হোল্ডিংস। ২০২৩ সালের ১৬ জুলাই প্রতিষ্ঠানটি চারটি প্লট একীভূত করার আবেদন করে। বড় আকারের বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের উদ্দেশ্যেই এ আবেদন করা হয়।
চারটি প্লট একীভূত করার আবেদনটি রাজউকের বিভিন্ন শাখায় দীর্ঘদিন ঘুরেছে। নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, আম-মোক্তারনামা নিয়ে বিরোধ, আদালতের নির্দেশ এবং প্লটের ব্যবহার পরিবর্তনের বিষয়সহ বিভিন্ন আইনি জটিলতা নিয়ে রাজউকের কর্মকর্তাদের আপত্তি ছিল।
রাজউকের একাধিক সূত্রের দাবি, শুরু থেকেই শান্তার এই ফাইল নিয়ে চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলামের বিশেষ আগ্রহ ছিল। কর্মকর্তাদের আপত্তি সত্ত্বেও ফাইলটি এগিয়ে নিতে ওপরের মহল থেকে তৎপরতা ছিল বলেও সূত্রগুলো জানিয়েছে।
রাজউকের কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ফাইলটি পাস করিয়ে নিতে শান্তা হোল্ডিংস রাজউক ভবনে অন্তত অর্ধশত কোটি টাকা খরচ করেছে। তবে এ দাবির স্বাধীন কোনো প্রমাণ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
নথি অনুযায়ী, ২১ জুলাই চারটি প্লট একীভূত করার অনুমোদনপত্র জারি এবং প্রয়োজনীয় ফি গ্রহণে আইনগত বাধা আছে কি না, সে বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইমাম হাছানের মতামত চায় রাজউক। জবাবে তিনি জানান, এতে আইনগত বাধা নেই।
এর পরদিন, ২২ জুলাই, রাজউক চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম অনুমতিপত্র জারির নির্দেশ দেন। একই দিনে চারটি প্লট একীভূত করার ফি জমা দেওয়ার অনুমোদনপত্রও জারি করা হয়। এতে স্বাক্ষর করেন রাজউকের উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-১) মো. নজরুল ইসলাম এবং সহকারী পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) মো. আশরাফ আলী।
চারটি প্লটের মোট আয়তন প্রায় ২২ বিঘা ১৮ কাঠা। এ জমির বিপরীতে একীভূতকরণ ফি রাজউক কোষাগারে জমা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে শান্তা হোল্ডিংস।
রাজউকের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আইনগত বিষয়ে মতামতের জন্য সংস্থাটির নিজস্ব আইন শাখা রয়েছে। কোনো আবেদনে আইনি জটিলতা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে তা আইন শাখায় পাঠিয়ে মতামত নেওয়ার পর প্রশাসনিক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। এরপর বিষয়টি বোর্ড সভায় উপস্থাপনেরও বিধান রয়েছে।
তবে শান্তা হোল্ডিংসের ক্ষেত্রে এ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট এস্টেট ও ভূমি-১ শাখার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মাসুম আলী বেগ লিখিতভাবে আপত্তি জানানোর পরও বিষয়টি বোর্ড সভায় তোলা হয়নি। বরং একজন বেসরকারি আইনজীবীর মতামতের ভিত্তিতে অনুমোদনপত্র জারি করা হয়েছে।
চারটি প্লট একীভূত হওয়ায় সেখানে বড় আকারের বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর ফলে পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা গুলশানের বাসিন্দাদের জন্য নির্ধারিত বিনোদন সুবিধা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শান্তা হোল্ডিংসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ভবনটির উচ্চতা ৩৫ থেকে ৪০ তলার বেশি হতে পারে। প্রতি তলায় প্রায় ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার বর্গফুট জায়গা থাকবে। শুরুতে প্রতি বর্গফুটের দাম ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা ধরা হলে প্রকল্পটির সম্ভাব্য মোট বাণিজ্যিক মূল্য দাঁড়াতে পারে হাজার কোটি টাকার বেশি।
রাজউকের পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-১) ডা. মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন বলেন, অনুমোদনপত্র জারি করার জন্য কে কী করেছে, তা ফাইলেই লেখা আছে। কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের বাইরে আমি কোনো মন্তব্য করতে পারবো না।
অভিযোগের বিষয়ে রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সিজেডএন টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এখানে কোনো কিছু ব্যক্তিগত না। আইনগত উপায়ে সবকিছু করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন