Ctn Tv

মূল পাতা

আন্তর্জাতিক

নেপালে ২০ হাজার পরিবারকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ

নেপালে ২০ হাজার পরিবারকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ
ছবি: সংগ্রহ

গত ২৬ আগস্ট হিমালয়ের হিমবাহ ধসের পর আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত নেপালে প্রায় ২০ হাজার পরিবারকে নতুন করে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার। ক্ষতিগ্রস্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী এসব পরিবারের জন্য নিরাপদ স্থানে নতুন বাড়িঘর নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রধান ধর্মরাজ উপ্রেতি তথ্য জানিয়েছেন।

ধর্মরাজ উপ্রেতি বলেন, প্রাথমিক হিসাবে অন্তত হাজার ৫০০ বাড়িঘর পুরোপুরি ধসে গেছে অথবা কাদা পলির নিচে চাপা পড়েছে। ছাড়া অনেক বাড়িঘর অক্ষত থাকলেও সেগুলো আর বসবাসের উপযোগী নেই।

এই দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হাজার ২০৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। চীন সীমান্তসংলগ্ন বেশ কয়েকটি জনপদ পলি কাদার নিচে চাপা পড়েছে।

দুর্যোগের পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পুরোনো এলাকায় ফিরিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনের ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। ধর্মরাজ উপ্রেতি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো এলাকায় নতুন করে বাড়ি নির্মাণের সুযোগ নেই। কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য নিরাপদ নতুন এলাকা চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বলেন, নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

চলছে উদ্ধার অভিযান

চীন, ভারত দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল নেপালের একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে আটকে পড়া শ্রমিকদের সন্ধানে অভিযান চালাচ্ছে।

'আপার ত্রিশূলী-' জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাছে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল তল্লাশি চালাচ্ছে। ড্রোন, প্রশিক্ষিত কুকুর, শাব্দিক তরঙ্গ শনাক্তকারী সরঞ্জাম থার্মাল ইমেজিং ক্যামেরা ব্যবহার করে নিখোঁজ শ্রমিকদের সন্ধান করা হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে নয়জন দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক রয়েছেন।

ঝুঁকিতে ২২ হাজার শিশু

দুর্যোগের কারণে শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হয়েছে। জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করতে জরুরি পরিচালন কেন্দ্রগুলো শিশুদের শিক্ষাব্যবস্থা দ্রুত চালুর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, অন্তত ২২ হাজার শিশু নিরাপদ খাবার পানি, স্যানিটেশন স্বাস্থ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা আশপাশের নিরাপদ ভবনে শিশুদের পাঠদান আবার চালু করার চেষ্টা করছেন শিক্ষক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা

ভবিষ্যতে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আন্তর্জাতিক মানের আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপাল সরকার।

পরিকল্পিত ব্যবস্থায় ভূমিকম্প পরিমাপক সেন্সর, ক্যামেরা স্যাটেলাইট সংযোগ সমন্বয় করা হবে। এর মাধ্যমে হিমবাহ ধস, আকস্মিক বন্যাসহ সম্ভাব্য দুর্যোগ সম্পর্কে আগাম সতর্কতা দেওয়ার ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

 

আকস্মিক বন্যা বিপর্যস্ত নেপাল ক্ষতিগ্রস্ত

আপনার মতামত লিখুন

নেপালে ২০ হাজার পরিবারকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ
0:00 0:00
1.0x
Ctn Tv

শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নেপালে ২০ হাজার পরিবারকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ

প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

গত ২৬ আগস্ট হিমালয়ের হিমবাহ ধসের পর আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত নেপালে প্রায় ২০ হাজার পরিবারকে নতুন করে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার। ক্ষতিগ্রস্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী এসব পরিবারের জন্য নিরাপদ স্থানে নতুন বাড়িঘর নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রধান ধর্মরাজ উপ্রেতি তথ্য জানিয়েছেন।

ধর্মরাজ উপ্রেতি বলেন, প্রাথমিক হিসাবে অন্তত হাজার ৫০০ বাড়িঘর পুরোপুরি ধসে গেছে অথবা কাদা পলির নিচে চাপা পড়েছে। ছাড়া অনেক বাড়িঘর অক্ষত থাকলেও সেগুলো আর বসবাসের উপযোগী নেই।

এই দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হাজার ২০৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। চীন সীমান্তসংলগ্ন বেশ কয়েকটি জনপদ পলি কাদার নিচে চাপা পড়েছে।

দুর্যোগের পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পুরোনো এলাকায় ফিরিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনের ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। ধর্মরাজ উপ্রেতি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো এলাকায় নতুন করে বাড়ি নির্মাণের সুযোগ নেই। কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য নিরাপদ নতুন এলাকা চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বলেন, নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

চলছে উদ্ধার অভিযান

চীন, ভারত দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল নেপালের একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে আটকে পড়া শ্রমিকদের সন্ধানে অভিযান চালাচ্ছে।

'আপার ত্রিশূলী-' জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাছে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল তল্লাশি চালাচ্ছে। ড্রোন, প্রশিক্ষিত কুকুর, শাব্দিক তরঙ্গ শনাক্তকারী সরঞ্জাম থার্মাল ইমেজিং ক্যামেরা ব্যবহার করে নিখোঁজ শ্রমিকদের সন্ধান করা হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে নয়জন দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক রয়েছেন।

ঝুঁকিতে ২২ হাজার শিশু

দুর্যোগের কারণে শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হয়েছে। জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করতে জরুরি পরিচালন কেন্দ্রগুলো শিশুদের শিক্ষাব্যবস্থা দ্রুত চালুর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, অন্তত ২২ হাজার শিশু নিরাপদ খাবার পানি, স্যানিটেশন স্বাস্থ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা আশপাশের নিরাপদ ভবনে শিশুদের পাঠদান আবার চালু করার চেষ্টা করছেন শিক্ষক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা

ভবিষ্যতে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আন্তর্জাতিক মানের আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপাল সরকার।

পরিকল্পিত ব্যবস্থায় ভূমিকম্প পরিমাপক সেন্সর, ক্যামেরা স্যাটেলাইট সংযোগ সমন্বয় করা হবে। এর মাধ্যমে হিমবাহ ধস, আকস্মিক বন্যাসহ সম্ভাব্য দুর্যোগ সম্পর্কে আগাম সতর্কতা দেওয়ার ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

 


Ctn Tv



কপিরাইট © ২০২৬ Ctn Tv । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত