Ctn Tv

মূল পাতা

আন্তর্জাতিক

নেপাল-তিব্বতে হিমবাহধস ও বন্যায় মৃত ১,২৮৭, নিখোঁজ ৫,০৮৩

নেপাল-তিব্বতে হিমবাহধস ও বন্যায় মৃত ১,২৮৭, নিখোঁজ ৫,০৮৩
ছবি: সংগ্রহ

নেপাল তিব্বতে হিমবাহধস থেকে সৃষ্ট বন্যা ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হাজার ২৮৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন হাজার ৮৩ জন। শুক্রবার দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা সর্বশেষ তথ্য জানিয়েছে।

সংস্থাটি জানায়, দুর্যোগের পর এখন পর্যন্ত হাজার ২৮৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন হাজার ৮৩ জন।

এর আগে নেপাল পুলিশের দেওয়া হিসাবে মৃতের সংখ্যা ছিল হাজার ২৮০ এবং নিখোঁজের সংখ্যা হাজার ৭৯৮। নতুন হিসাবে মৃতের সংখ্যা জন এবং নিখোঁজের সংখ্যা ২৮৫ জন বেড়েছে।

টানেল থেকে জীবিত উদ্ধার দুইজন

বন্যার নয় দিন পর ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি টানেল থেকে শুক্রবার দুই ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় টানেলের ভেতরে আরও মানুষ জীবিত থাকতে পারেন বলে আশা করছেন উদ্ধারকারীরা।

উদ্ধার হওয়া দুজন হলেন প্রকল্পের যান্ত্রিক বিভাগের ফোরম্যান সঞ্জয় সাহ একই বিভাগের সুপারভাইজার কবির মহার্জন।

শুক্রবার তথ্য জানান রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির (আরএসপি) আইনপ্রণেতা প্রকৌশলী শ্রী রাম নেউপানে। ২৬ আগস্ট বন্যার পর থেকেই তিনি উদ্ধার অভিযানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

নেউপানে জানান, শুক্রবার প্রথমে সঞ্জয় সাহকে উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধার করা হয় কবির মহার্জনকে।

তিনি বলেন, টানেলের ভেতরে আরও কয়েকজন আটকা পড়ে থাকতে পারেনএমন তথ্য পাওয়ার পর সেখানে অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছেন উদ্ধারকারীরা।

এর আগে টানেলের ভেতর থেকে মানুষের কণ্ঠস্বর শোনা যাওয়ার পর উদ্ধার অভিযানে নতুন করে আশার সৃষ্টি হয়। উদ্ধারকারীরা ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেও সক্ষম হন।

কণ্ঠস্বর পাওয়ার পর নেপালি সেনাবাহিনী সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী টানেলের ভেতরে পৌঁছানোর চেষ্টা আরও জোরদার করে।

নেউপানে বলেন, উদ্ধারকারী দল টানেলের ভেতরে থাকা লোকজনকে উদ্দেশ করে বলেছিল, ‘আতঙ্কিত হবেন না, আমরা আপনাদের উদ্ধার করতে এসেছি।জবাবে ভেতর থেকে বলা হয়, ‘ঠিক আছে।

পরে উদ্ধারকারীরা নিশ্চিত হন, টানেলের ভেতরে একাধিক ব্যক্তি আটকা পড়ে রয়েছেন।

নতুন করে বন্যার শঙ্কা

হিমবাহধসের প্রথম দিনেই দুটি প্রাকৃতিক হ্রদের সৃষ্টি হয়। এসব হ্রদ থেকে পানি উপচে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। এর মধ্যে একটি হ্রদের পানি গত শনিবার সন্ধ্যার দিকে অনেকটাই কমে যায়।

তবে শনিবার গভীর রাতে ড্রোনের মাধ্যমে নতুন একটি ঝুঁকি শনাক্ত করে চীন।

সিসিটিভির খবরে বলা হয়, ওই দুটি হ্রদের দশমিক কিলোমিটার ভাটিতে নতুন করে বড় ধরনের ভূমিধস হয়েছে। এর ফলে সেখানে প্রাকৃতিকভাবে আরেকটি বাঁধ হ্রদ তৈরি হয়েছে।

নতুন এই হ্রদের কারণে আবারও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিরাপত্তার স্বার্থে গিরং সীমান্ত ক্রসিংয়ের কাছাকাছি অবস্থান করা উদ্ধারকারী দল নিরাপত্তাকর্মীদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব

চীনের বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের কারণে হিমালয়ের বরফাবৃত অঞ্চলে ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরি হচ্ছে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় চীন ইতোমধ্যে হাজার ১০০ জনের বেশি উদ্ধারকর্মী পাঠিয়েছে। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ জরুরি ত্রাণ বরাদ্দ করা হয়েছে।

উদ্ধার অভিযানে চীন ভারী ড্রোনের পাশাপাশি নিখোঁজ ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে অত্যাধুনিক লাইফ ডিটেক্টর যন্ত্রও ব্যবহার করছে।

নেপাল তিব্বত হিমবাহধস বন্যা

আপনার মতামত লিখুন

নেপাল-তিব্বতে হিমবাহধস ও বন্যায় মৃত ১,২৮৭, নিখোঁজ ৫,০৮৩
0:00 0:00
1.0x
Ctn Tv

শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নেপাল-তিব্বতে হিমবাহধস ও বন্যায় মৃত ১,২৮৭, নিখোঁজ ৫,০৮৩

প্রকাশের তারিখ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

নেপাল তিব্বতে হিমবাহধস থেকে সৃষ্ট বন্যা ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হাজার ২৮৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন হাজার ৮৩ জন। শুক্রবার দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা সর্বশেষ তথ্য জানিয়েছে।

সংস্থাটি জানায়, দুর্যোগের পর এখন পর্যন্ত হাজার ২৮৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন হাজার ৮৩ জন।

এর আগে নেপাল পুলিশের দেওয়া হিসাবে মৃতের সংখ্যা ছিল হাজার ২৮০ এবং নিখোঁজের সংখ্যা হাজার ৭৯৮। নতুন হিসাবে মৃতের সংখ্যা জন এবং নিখোঁজের সংখ্যা ২৮৫ জন বেড়েছে।

টানেল থেকে জীবিত উদ্ধার দুইজন

বন্যার নয় দিন পর ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি টানেল থেকে শুক্রবার দুই ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় টানেলের ভেতরে আরও মানুষ জীবিত থাকতে পারেন বলে আশা করছেন উদ্ধারকারীরা।

উদ্ধার হওয়া দুজন হলেন প্রকল্পের যান্ত্রিক বিভাগের ফোরম্যান সঞ্জয় সাহ একই বিভাগের সুপারভাইজার কবির মহার্জন।

শুক্রবার তথ্য জানান রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির (আরএসপি) আইনপ্রণেতা প্রকৌশলী শ্রী রাম নেউপানে। ২৬ আগস্ট বন্যার পর থেকেই তিনি উদ্ধার অভিযানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

নেউপানে জানান, শুক্রবার প্রথমে সঞ্জয় সাহকে উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধার করা হয় কবির মহার্জনকে।

তিনি বলেন, টানেলের ভেতরে আরও কয়েকজন আটকা পড়ে থাকতে পারেনএমন তথ্য পাওয়ার পর সেখানে অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছেন উদ্ধারকারীরা।

এর আগে টানেলের ভেতর থেকে মানুষের কণ্ঠস্বর শোনা যাওয়ার পর উদ্ধার অভিযানে নতুন করে আশার সৃষ্টি হয়। উদ্ধারকারীরা ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেও সক্ষম হন।

কণ্ঠস্বর পাওয়ার পর নেপালি সেনাবাহিনী সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী টানেলের ভেতরে পৌঁছানোর চেষ্টা আরও জোরদার করে।

নেউপানে বলেন, উদ্ধারকারী দল টানেলের ভেতরে থাকা লোকজনকে উদ্দেশ করে বলেছিল, ‘আতঙ্কিত হবেন না, আমরা আপনাদের উদ্ধার করতে এসেছি।জবাবে ভেতর থেকে বলা হয়, ‘ঠিক আছে।

পরে উদ্ধারকারীরা নিশ্চিত হন, টানেলের ভেতরে একাধিক ব্যক্তি আটকা পড়ে রয়েছেন।

নতুন করে বন্যার শঙ্কা

হিমবাহধসের প্রথম দিনেই দুটি প্রাকৃতিক হ্রদের সৃষ্টি হয়। এসব হ্রদ থেকে পানি উপচে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। এর মধ্যে একটি হ্রদের পানি গত শনিবার সন্ধ্যার দিকে অনেকটাই কমে যায়।

তবে শনিবার গভীর রাতে ড্রোনের মাধ্যমে নতুন একটি ঝুঁকি শনাক্ত করে চীন।

সিসিটিভির খবরে বলা হয়, ওই দুটি হ্রদের দশমিক কিলোমিটার ভাটিতে নতুন করে বড় ধরনের ভূমিধস হয়েছে। এর ফলে সেখানে প্রাকৃতিকভাবে আরেকটি বাঁধ হ্রদ তৈরি হয়েছে।

নতুন এই হ্রদের কারণে আবারও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিরাপত্তার স্বার্থে গিরং সীমান্ত ক্রসিংয়ের কাছাকাছি অবস্থান করা উদ্ধারকারী দল নিরাপত্তাকর্মীদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব

চীনের বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের কারণে হিমালয়ের বরফাবৃত অঞ্চলে ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরি হচ্ছে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় চীন ইতোমধ্যে হাজার ১০০ জনের বেশি উদ্ধারকর্মী পাঠিয়েছে। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ জরুরি ত্রাণ বরাদ্দ করা হয়েছে।

উদ্ধার অভিযানে চীন ভারী ড্রোনের পাশাপাশি নিখোঁজ ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে অত্যাধুনিক লাইফ ডিটেক্টর যন্ত্রও ব্যবহার করছে।


Ctn Tv



কপিরাইট © ২০২৬ Ctn Tv । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত