খেলাপি ঋণ আদায়ে বেক্সিমকোর ২৬ একর সম্পত্তি নিলামে রূপালী ব্যাংক
খেলাপি ঋণ
আদায়ে বেক্সিমকো লিমিটেডের বন্ধক রাখা প্রায় ২৬
একর জমি ও সম্পত্তি
নিলামে তুলছে রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক। গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে থাকা
এসব সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ১৯১
কোটি টাকা ঋণ আদায়ের
উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।রূপালী ব্যাংকের
প্রধান কার্যালয় থেকে প্রকাশিত নিলাম
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বেক্সিমকো
টেক্সটাইলের কাছে ব্যাংকটির সর্বশেষ
পাওনা ১৯০ কোটি ৯২
লাখ টাকা। এর মধ্যে অনাদায়ী
সুদ অন্তর্ভুক্ত নয়। ব্যাংকের পাওনা,
অন্যান্য খরচ ও আদালতের
সুদসহ অর্থ আদায়ের জন্য
বন্ধক রাখা সম্পত্তিগুলো বর্তমান
অবস্থায় নিলামে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে ঋণগ্রহীতা
হিসেবে বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি লিমিটেডের (বেক্সিমকো লিমিটেড) নাম উল্লেখ করা
হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আগে বেক্সটেক্স লিমিটেড
নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তী সময়ে
পদ্মা টেক্সটাইল মিলস ও বেক্সিমকো
নিটিং এর সঙ্গে একীভূত
হয়।নিলাম তালিকায়
গাজীপুরের জয়দেবপুর, কালিয়াকৈর, কাপাসিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার জমি রয়েছে। এর
মধ্যে গাজীপুরের সরাবো মৌজায় ৮ দশমিক ৫৫
একর জমি রয়েছে। অন্য
তফসিলগুলোতে ২ দশমিক ১৯
একর, ৩ দশমিক ৬৬
একর এবং বিভিন্ন পরিমাণ
শতাংশ জমির বিবরণ দেওয়া
হয়েছে।নারায়ণগঞ্জের তারাবো
ও যাত্রামুড়া মৌজার সম্পত্তিও রয়েছে নিলামের তালিকায়। তারাবোর দুটি অংশে ৮
দশমিক ৩৯ একর এবং
যাত্রামুড়ায় ৯ দশমিক ২
একর জমি রয়েছে। গাজীপুরের
৮ দশমিক ৫৫ একরসহ তফসিলভুক্ত
মোট জমির পরিমাণ ২৫
দশমিক ৯৬ একর।নিলামে অংশ
নিতে আগ্রহীদের আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর বেলা
২টার মধ্যে নির্ধারিত কার্যালয়ে দরপত্র জমা দিতে হবে।
একই দিন বেলা ২টা
৫ মিনিটে দরপত্রদাতাদের উপস্থিতিতে দরপত্র খোলা হবে।নিলামে অংশগ্রহণকারীদের
প্রস্তাবিত মূল্যের ওপর নির্ধারিত হারে
জামানত দিতে হবে। ১০
লাখ টাকা পর্যন্ত দর
হলে ২০ শতাংশ, ১০
থেকে ৫০ লাখ টাকা
পর্যন্ত ১৫ শতাংশ এবং
৫০ লাখ টাকার বেশি
হলে ১০ শতাংশ হারে
জামানত দিতে হবে। সম্পত্তির
প্রস্তাবিত মূল্য অস্বাভাবিকভাবে কম বা অপর্যাপ্ত
মনে হলে কর্তৃপক্ষ দরপত্র
বাতিল করতে পারবে।বেক্সিমকো লিমিটেডের
কোম্পানি সেক্রেটারি আসাদ উল্লাহ বলেন,
রূপালী ব্যাংকের নিলাম সম্পর্কে তিনি জানেন না।
তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের অক্টোবর
পর্যন্ত কোম্পানিটি ঋণখেলাপি ছিল না। এরপর
কোম্পানির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায়
ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা কমে গেছে।বেক্সিমকোর আর্থিক
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩০
জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির দীর্ঘমেয়াদি ঋণের মধ্যে রূপালী
ব্যাংকের ছিল ৪৮২ কোটি
৬৬ লাখ টাকা। তবে
বর্তমান নিলাম বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা ১৯০ কোটি
৯২ লাখ টাকাই এই
নিলাম প্রক্রিয়ার পাওনা।অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক
আবু আহমেদ বলেন, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেবেচিন্তেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তবে নিলামে সম্পত্তির সঠিক মূল্য না
পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাঁর মতে, ব্যাংক
ও গ্রাহকের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হওয়াই ভালো।