১০০ শয্যার হাসপাতালটিতে ভর্তি ৩৩৫ জন রোগী। শয্যা না পেয়ে কেউ চিকিৎসা নিচ্ছেন বারান্দার মেঝেতে, আবার কাউকে একই বিছানা ভাগাভাগি করতে হচ্ছে অন্য রোগীর সঙ্গে। ডেঙ্গু, হামসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত শিশু ও বয়স্কদের ভিড়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে নরসিংদী ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে। সীমিত জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে বিপুলসংখ্যক রোগীকে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত দুই সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন তিন শতাধিক রোগী ভর্তি থাকছেন। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ৩৩৫ জন। তাঁদের মধ্যে ১০৫ জন পুরুষ, ১৩২ জন নারী ও ৯৮ জন শিশু। ভর্তি রোগীদের মধ্যে ৩০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত।দেশজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপের প্রভাব পড়েছে নরসিংদীতেও। জেলার শহর ও আশপাশের এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। ডেঙ্গু ও হামের রোগীদের পাশাপাশি সাধারণ রোগে আক্রান্ত শিশু ও বয়স্করাও হাসপাতালে এসে শয্যা পাচ্ছেন না। ফলে বাধ্য হয়ে অনেককে বারান্দার মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।শয্যা না পেয়ে মেঝেতে শিশুর চিকিৎসারায়পুরা থেকে ছয় মাসের শিশুকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন আমেনা বেগম। দুই দিন ধরে বারান্দার মেঝেতেই শিশুটির চিকিৎসা করাচ্ছেন তিনি। আর্থিক সংকট ও ঢাকায় যাওয়ার মতো লোক না থাকায় শয্যা না পেলেও হাসপাতাল ছাড়তে পারছেন না।অন্যদিকে, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী মোমেন খান জানান, হাসপাতালে শয্যা খালি না থাকায় অন্য এক রোগীর অনুপস্থিতিতে সাময়িকভাবে তাঁর বিছানায় শুয়ে স্যালাইন নিতে হচ্ছে তাঁকে।রোগীদের এমন দুর্ভোগের মধ্যে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রাখাও কঠিন হয়ে পড়েছে। রোগীর সংখ্যা ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ হওয়ায় শয্যা ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা—সব ক্ষেত্রেই বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।প্যাথলজি বিভাগেও বাড়তি চাপরোগীর চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের কাজও। ল্যাব টেকনিশিয়ান শাহ আলম জানান, আগে প্রতিদিন যেখানে ৭০ থেকে ৮০টি পরীক্ষা করা হতো, এখন সেই সংখ্যা দেড় শতাধিক ছাড়িয়ে গেছে।হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মাজহারুল আলম বলেন, ‘১০০ জনের লজিস্টিক সাপোর্ট ও জনবল দিয়ে তিনগুণের বেশি রোগীকে সেবা দেওয়া অত্যন্ত কষ্টকর।’সীমিত জনবল ও সরঞ্জাম দিয়ে এত বিপুলসংখ্যক রোগীকে চিকিৎসা দিতে গিয়ে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে।দূরদূরান্ত থেকেও আসছেন রোগীরাঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে অবস্থিত হওয়ায় নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নিয়মিত সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের আনা হয়। পাশাপাশি রায়পুরা উপজেলা এবং কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকার অনেক রোগী উন্নত চিকিৎসার আশায় এ হাসপাতালে আসেন।ভৌগোলিক অবস্থান ও যোগাযোগব্যবস্থার সুবিধার কারণে হাসপাতালটিতে রোগীর চাপ সব সময়ই বেশি। এর সঙ্গে ডেঙ্গু ও হামের রোগী বাড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।শয্যা ও জনবল বাড়ানোর দাবিহাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এএনএম মিজানুর রহমান বলেন, ধারণক্ষমতার বাইরে রোগী ভর্তি থাকলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁরা চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন।তিনি ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান।এদিকে, হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও সরঞ্জাম সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী জেলাবাসী। তাঁদের মতে, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে রোগীর চাপ সামাল দেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়বে। এ পরিস্থিতিতে হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়াতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।