চিড়িয়াখানার লেকে ছাড়া হলো আড়াই হাজারের বেশি পোনা
দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়ানো ও প্রজাতি সংরক্ষণে
সারা দেশে মাছের পোনা
অবমুক্ত করছে সরকার। এর
অংশ হিসেবে ঢাকার বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার লেকে আজ শনিবার
২৫০ কেজি পোনামাছ অবমুক্ত
করা হয়েছে।পোনা অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানের
পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, মাছের
উৎপাদন বাড়ানো এবং দেশীয় প্রজাতির
মাছ টিকিয়ে রাখাই সরকারের মূল লক্ষ্য।প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় মৎস্যপক্ষ উপলক্ষে কিশোরগঞ্জ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক
রহমান এ কর্মসূচির উদ্বোধন
করেছেন। এর ধারাবাহিকতায় দেশের
বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায়
পোনা অবমুক্ত করা হচ্ছে। স্থানীয়
সংসদ সদস্য, জনপ্রতিনিধি ও মৎস্য বিভাগের
কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়িত
হচ্ছে।দেশে মাছের কোনো
উল্লেখযোগ্য ঘাটতি নেই উল্লেখ করে
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বিশেষ
করে মিঠাপানির মাছের উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। মাছচাষির সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন বাড়ানোর প্রচেষ্টাও চলছে।প্রান্তিক পর্যায়ের খামারিদের উৎসাহিত করতে বিভিন্ন সহায়তা
দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, মাছচাষিরা
কৃষক কার্ডের আওতায় বিভিন্ন সুবিধা পাবেন। সহজ শর্তে ঋণসহ
বিভিন্ন প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে মাছের
উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।নিরাপদ মাছ উৎপাদনে অপ্রয়োজনীয়
অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বন্ধে খামারিদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া
হচ্ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে
মাছ চাষের পরামর্শ দিচ্ছেন।মাছের খাদ্যের মান নিশ্চিত করতে
নিয়মিত নজরদারি ও মোবাইল কোর্ট
পরিচালনার কথাও জানান তিনি।
নিম্নমানের ফিড উৎপাদন ও
বাজারজাত বন্ধে তদারকি আরও জোরদার করা
হয়েছে।চিড়িয়াখানার লেকে ২,৫৭৫ পোনাঢাকা জেলা মৎস্য
কর্মকর্তার কার্যালয়ের উদ্যোগে জাতীয় চিড়িয়াখানার লেকে মোট ২৫০
কেজি পোনামাছ ছাড়া হয়। এর
মধ্যে ১০০ কেজি রুই,
৭৫ কেজি কাতলা ও
৭৫ কেজি কালিবাউস।১০ থেকে ১৫
সেন্টিমিটার আকারের এসব পোনার মোট
সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৫৭৫টি।
এর মধ্যে রুই প্রায় ১
হাজার ১০০, কাতলা প্রায়
৬০০ এবং কালিবাউস প্রায়
৮৭৫টি।অনুষ্ঠানে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী
আহমেদ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান,
মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ
কনকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।