কুমিল্লায় জমি কিনেও দখলে যেতে পারছেন না ক্রেতারা, বাধার অভিযোগ
কুমিল্লার
বুড়িচং উপজেলার আগানগর গ্রামে দলিলমূলে জমি কেনার পরও
দখলে যেতে পারছেন না
বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ক্রেতা। জমিতে প্রবেশ ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ
করতে গেলে বাধা দেওয়ার
অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার অহিদুর
রহমান, মনিরুল ইসলাম ও তাঁদের পরিবারের
সদস্যদের বিরুদ্ধে। তবে অহিদুর রহমানের
দাবি, জমি নিয়ে আদালতে
দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলমান
থাকায় তাঁরা ক্রেতাদের বাধা দিচ্ছেন।ভুক্তভোগীদের
মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ডালিম, খোরশেদসহ কয়েকজন। তাঁদের দাবি, আইনজীবীর মাধ্যমে জমির দলিলসহ প্রয়োজনীয়
কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে তাঁরা জমিটি
কিনেছেন। এরপরও বিভিন্ন অজুহাতে তাঁদের জমিতে যেতে দেওয়া হচ্ছে
না।ক্রেতাদের
ভাষ্য অনুযায়ী, গত শনিবার রাতে
তাঁরা কেনা জমিতে বালু
ফেলেন। পরদিন রোববার সকাল ১০টার দিকে
সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের প্রস্তুতি হিসেবে ইট ও সিমেন্ট
নিয়ে সেখানে গেলে অহিদুর রহমান,
মনিরুল ইসলাম এবং তাঁদের পরিবারের
সদস্যরা বাধা দেন। এতে
দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে মারতে
উদ্যত হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হলে সংঘাত
এড়াতে তাঁরা সেখান থেকে চলে আসেন
বলে দাবি করেন ক্রেতারা।ব্যবসায়ী
ডালিম বলেন, ‘আমরা জমির সব
কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করেই কিনেছি। আমাদের
কাছে জমির দলিল রয়েছে।
কিন্তু তাঁরা আমাদের জমিতে যেতে দিচ্ছেন না।
আমি তাঁদের বলেছি, আপনাদের দলিলপত্র থাকলে সেগুলো নিয়ে থানায় আসেন।’ডালিমের
দাবি, থানা-পুলিশের উদ্যোগে
একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও অপর
পক্ষ আলোচনায় আসেনি। তাই রোববার তাঁরা
জমিতে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করতে গিয়েছিলেন। বাধার
মুখে পড়ে কথা-কাটাকাটি
হলেও কোনো মারধরের ঘটনা
ঘটেনি বলে জানান তিনি।তিনি
আরও বলেন, ‘আমরা চাই, সঠিকভাবে
কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে জমির বিষয়টি
সমাধান করা হোক এবং
আমাদের ক্রয়কৃত জমি বুঝিয়ে দেওয়া
হোক। কাগজপত্র যাচাই করে যদি দেখা
যায় জমির মালিকানা তাঁদের,
তাহলে আমরাও তাঁদের জমি বুঝিয়ে দিয়ে
চলে আসব। আমরা কোনো
ঝামেলা চাই না, সঠিক
সমাধান চাই।’স্থানীয়
সূত্রে জানা যায়, আগানগর
মৌজার ৩১৭ নম্বর দাগের
১২ শতাংশ জমি নিয়ে অহিদুর
রহমান, মনিরুল ইসলাম গং এবং তাহেরা
বেগমের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।
ক্রেতাদের দাবি, তাহেরা বেগমের নামে থাকা আরও
কিছু সম্পত্তিও বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।ক্রেতাদের
দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাহেরা
বেগম ৩১৭ নম্বর দাগের
১২ শতাংশ জমি সাফ-কবলা
দলিলের মাধ্যমে তাঁর ছেলে আকবর
হোসেনের কাছে হস্তান্তর করেন।
পরে আকবর হোসেনের কাছ
থেকে জমিটি কেনেন ডালিম, খোরশেদসহ কয়েকজন। জমি কেনার পর
থেকেই তাঁরা দখল নিতে বাধার
মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ তাঁদের।অভিযোগের
বিষয়ে জানতে চাইলে অহিদুর রহমান বলেন, ‘আমরা ছয় ভাই
এবং তাহেরা বেগমের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে
বণ্টন মামলা চলমান রয়েছে। প্রায় ২৭ বছর ধরে
মামলাটি আদালতে বিচারাধীন।’অহিদুর
রহমানের দাবি, জমি নিয়ে বিরোধের
বিষয়টি জানা সত্ত্বেও ডালিম
ও খোরশেদ অধিক লাভের আশায়
তুলনামূলক কম দামে জমিটি
কিনেছেন। মামলা চলমান থাকায় তাঁরা ক্রেতাদের জমির দখল নিতে
বাধা দিচ্ছেন।জমিটির
প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ এবং বিরোধের নিষ্পত্তির
বিষয়ে আদালতের মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট
দলিলপত্র যাচাই করা প্রয়োজন।