ধর্মভিত্তিক বিভাজনের রাজনীতি তৈরির চেষ্টা হচ্ছে- মির্জা ফখরুল
প্রতিবেদক: মো: তুষার পাঠান পলাশস্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে নতুন করে ধর্মভিত্তিক বিভাজনের রাজনীতি তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষের সংখ্যা বেশি হলেও রাষ্ট্রে সব ধর্মের মানুষের সমান মর্যাদা ও অধিকার রয়েছে। কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়কে খাটো করার সুযোগ নেই।বুধবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান–মেম্বার অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সামনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং তা নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করা হবে। বিএনপি বা জামায়াত—কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কেউ বিশেষ সুবিধা পাবে না। জনগণের ভোট ও আস্থার মাধ্যমেই জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হতে হবে।তিনি বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনই গণতন্ত্রের ভিত্তি। নির্বাচন শেষে চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নিয়ে একটি জাতীয় সংগঠন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ জন্য প্রথমে একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হবে এবং পরে কাউন্সিলের আয়োজন করা হবে। ওই কাউন্সিলে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন বলেও জানান তিনি।সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছেন। এ বছরের মধ্যে ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি কৃষক কার্ড চালু, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা এবং খাল খনন কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।তিনি বলেন, এসব কর্মসূচির মূল লক্ষ্য তৃণমূলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন। উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ ছাড়া শক্তিশালী রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব নয়।মির্জা ফখরুল বলেন, শুধু প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ক্ষমতায়ন এবং তাঁদের দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। কারণ তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিরাই স্থানীয় মানুষের সমস্যা ও চাহিদা সবচেয়ে ভালো বোঝেন।ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সীমিত সম্পদ ও নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও দেশে ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতি করা উচিত নয়। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে ঈদ, দুর্গাপূজাসহ সব ধর্মীয় ও সামাজিক আয়োজনে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। রাষ্ট্র সব নাগরিকের, তাই বিভাজনের রাজনীতি গ্রহণযোগ্য নয়।আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, দলটি ক্ষমতায় থাকাকালে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি আরও জানান, জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে যাতে তাঁদের বরখাস্ত না করা হয়, সে লক্ষ্যে আইন সংশোধনের উদ্যোগ রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ভাতা বৃদ্ধির বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।