Ctn Tv

নরসিংদীর শিল্পাঞ্চলে গ্যাস–বিদ্যুৎ সংকট, দিনে ক্ষতি ৫০০ কোটি টাকা

নরসিংদীর শিল্পাঞ্চলে তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় টেক্সটাইল, ডাইং, প্রিন্টিং, স্পিনিং, সিরামিকসহ বিভিন্ন মাঝারি ও ভারী শিল্পকারখানার উৎপাদন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। একই কারণে অনেক সিএনজি স্টেশনও কার্যক্রম চালাতে পারছে না।শিল্পমালিক ও ব্যবসায়ী নেতাদের দাবি, জ্বালানি সংকটের কারণে নরসিংদীর শিল্পাঞ্চলে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে। তাঁদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়বে।ব্যবসায়ীরা জানান, মহেশখালীতে এলএনজি টার্মিনালে দুর্ঘটনার পর গ্যাস সরবরাহে সংকট আরও তীব্র হয়েছে। এর সঙ্গে বেড়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। ফলে অনেক কারখানায় উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।নরসিংদীতে টেক্সটাইল, ডাইং ও স্পিনিং মিলের সংখ্যা তিন হাজারের বেশি। দেশের কাপড়ের বড় একটি অংশ এই জেলায় উৎপাদিত হয়।ভূঁইয়া টেক্সটাইল অ্যান্ড ক্যালন্ডার মিলসের পরিচালক আনিসুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে তাঁদের কারখানার উৎপাদন কার্যত বন্ধ। কারখানা চালাতে অন্তত ১০ পিএসআই গ্যাসের চাপ প্রয়োজন হলেও বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১ থেকে ২ পিএসআই। রাতে সিলিন্ডার গ্যাস দিয়ে এক থেকে দুই ঘণ্টা কারখানা চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।বাংলাদেশ টেক্সটাইল ডাইং অ্যান্ড প্রিন্টিং অ্যাসোসিয়েশন, নরসিংদীর চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন ভূইয়া লিটন বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে নরসিংদী ও মাধবদী এলাকার প্রায় ৮০ শতাংশ মিল বন্ধ হয়ে গেছে।বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) মুখপাত্র আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে শিল্পাঞ্চলে। তাঁর ভাষায়, আগে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটকে স্বল্পতা বলা হতো, এখন পরিস্থিতি প্রায় শূন্যের পর্যায়ে পৌঁছেছে।উদ্যোক্তারা বলছেন, উৎপাদন বন্ধ থাকায় কারখানাগুলোতে বিক্রিও বন্ধ রয়েছে। এতে একদিকে মালিকেরা আর্থিক সংকটে পড়েছেন, অন্যদিকে শ্রমিক-কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন পরিশোধ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, দ্রুত গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা না গেলে নরসিংদীর গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও সংকটময় হয়ে উঠতে পারে।

নরসিংদীর শিল্পাঞ্চলে গ্যাস–বিদ্যুৎ সংকট, দিনে ক্ষতি ৫০০ কোটি টাকা