অনলাইনে মাদক বিক্রির অভিযোগ, দারাজের বিরুদ্ধে মামলা
দারাজে বিক্রি হওয়া একটি পণ্যে মাদক পাওয়ার অভিযোগের পর ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মটির বিরুদ্ধে মামলা করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (নারকোটিক্স)। মামলায় দারাজের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।সোমবার রাজধানীর বাড্ডা থানায় মামলাটি করা হয়। এর
এক দিন আগে দারাজের
একজন পণ্য সরবরাহকারীকে গ্রেপ্তার
করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা
অঞ্চলের উপপরিচালক মেহেদী হাসান জানান, দারাজে বিক্রি হওয়া একটি পণ্যে
মাদক পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তে
সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারীর বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়।রোববার বিকেলে বাড্ডার সাঁতারকুল এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান
চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সিবিটি অয়েল ও তা
তৈরির বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করা হয়। এ
সময় দারাজের পণ্য সরবরাহকারী আনিসুর
রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, আনিসুর
রহমান দীর্ঘদিন জাপানে ছিলেন। সেখানে তিনি গাঁজার তরল
উপাদান ব্যবহার করে এক ধরনের
তেল তৈরির কৌশল শেখেন বলে
তদন্তকারীদের দাবি। দেশে ফিরে তিনি
সুগন্ধি সাবান তৈরির আড়ালে ওই কার্যক্রম চালাচ্ছিলেন
বলে অভিযোগ রয়েছে।ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মাদক বিক্রি নিয়ে প্রথম মামলাতদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সম্প্রতি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সংশোধন এনে
সাইবার স্পেস ও ডিজিটাল ডিভাইস
ব্যবহার করে মাদক কেনাবেচা
ও সরবরাহের বিষয়টি অপরাধের আওতায় আনা হয়েছে। সংশোধিত
আইনের অধীনে এটিই প্রথম মামলা
বলে তাঁরা জানান।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮-এর
সংশোধিত ৩৬-এর ‘ক’
ধারায় সাইবার স্পেস বা ডিজিটাল ডিভাইস
ব্যবহার করে মাদকদ্রব্য বা
সাইকোঅ্যাকটিভ সাবস্টেন্স অবৈধভাবে ক্রয়-বিক্রয়, সরবরাহ,
প্রচার বা লেনদেনের শাস্তির
বিধান রাখা হয়েছে। এ
ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড এবং অনূর্ধ্ব ২০
লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান
রয়েছে।আরও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম নজরদারিতেমাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) হাসান মারুফ বলেন, মাদকের বিস্তার ঠেকাতে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিতে
চায়। অনলাইনে মাদক কেনাবেচার বিষয়টিও
এখন সংশোধিত আইনের আওতায় এসেছে।তিনি বলেন, দারাজের
পাশাপাশি সন্দেহজনক অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মের কার্যক্রমও নজরদারিতে রাখা হয়েছে।মামলাটি তদন্তের পাশাপাশি দারাজের মাধ্যমে পণ্য সরবরাহের পুরো
প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের
ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে
জানিয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।