Ctn Tv

আমি স্বাস্থ্যের প্রতিমন্ত্রী, হাসপাতালের নই: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

হাসপাতালকেন্দ্রিক চিকিৎসার পরিবর্তে রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেশের স্বাস্থ্যনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি বলেছেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হাসপাতালের সংখ্যা বাড়ানো নয়; বরং তৃণমূল পর্যায় থেকে রোগ, শারীরিক অক্ষমতা ও অকালমৃত্যু প্রতিরোধ করা।সোমবার সকালে রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম) আয়োজিত ‘স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে চিকিৎসা প্রযুক্তির সম্ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘হাসপাতালে ভর্তি হওয়া প্রকৃতপক্ষে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রাথমিক ব্যর্থতা নির্দেশ করে। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই—আমি স্বাস্থ্যের প্রতিমন্ত্রী, হাসপাতালের প্রতিমন্ত্রী নই। আমাদের মূল অগ্রাধিকার হাসপাতাল বৃদ্ধি নয়, বরং তৃণমূল পর্যায় থেকে রোগ, শারীরিক অক্ষমতা ও অকাল মৃত্যু প্রতিরোধ করা।’নিয়োগ দেওয়া হবে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মীপ্রচলিত স্বাস্থ্যসেবা কাঠামো থেকে বেরিয়ে এসে তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও ইন্টারনেট অব থিংসের (আইওটি) সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে বলে জানান ড. এম এ মুহিত।তিনি বলেন, সরকার ইতিমধ্যে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। তাঁদের শুধু প্রশিক্ষণই দেওয়া হবে না, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম দিয়েও প্রস্তুত করা হবে।দেশে অসংক্রামক রোগের প্রকোপ বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা বিভাগীয় পর্যায়ে বিকেন্দ্রীকরণ করা হচ্ছে, যাতে রোগীদের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় ছুটতে না হয়। অদূর ভবিষ্যতে প্রতিটি জেলা হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ পর্যায়ে এসব সেবা সম্প্রসারণ করা হবে।স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকাস্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকারের প্রথম বাজেটে হার্টের রিং বা স্টেন্ট, ডায়ালিসিস ফিল্টার, সক্রিয় ওষুধের উপাদান (এপিআই) এবং কৃত্রিম চোখের লেন্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা উপকরণের ওপর ভ্যাট ও কর কমানো বা মওকুফ করা হয়েছে।একই সঙ্গে চলতি অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।চিকিৎসাসামগ্রী আমদানির অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রতা কমানোর বিষয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, অতীতে যে কমিটির বৈঠক দুই বছরেও হয়নি, গত পাঁচ মাসে সেই কমিটি তিনবার বৈঠক করে চিকিৎসাসামগ্রীর অনুমোদন নিশ্চিত করেছে।চিকিৎসা প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের আহ্বানবাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে ড. এম এ মুহিত বলেন, শুধু উচ্চমূল্যের চিকিৎসা সরঞ্জাম বিক্রি করলেই হবে না। এসব যন্ত্রপাতির জীবনকালীন ব্যয়, বিক্রয়োত্তর সেবা এবং দেশীয় প্রকৌশলী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীদের চিকিৎসা প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলা এবং দেশে চিকিৎসা যন্ত্রাংশ সংযোজন ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।অকেজো পড়ে থাকা চিকিৎসা সরঞ্জামগুলোর কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে তদারকির জন্য জাতীয় ই-হেলথ ও ডিজিটাল মনিটরিং ড্যাশবোর্ড চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী।প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসায় করপোরেট সহায়তার আহ্বানসুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে প্রতিবন্ধী শিশুদের চিকিৎসাসহায়তায় এগিয়ে আসার জন্য বৈশ্বিক বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানান ড. এম এ মুহিত। এ ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোর করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।গোলটেবিল বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর হোসেন, অ্যামচ্যামের সভাপতি ও মাস্টারকার্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের বাণিজ্যিক কাউন্সেলর পল জি ফ্রস্ট এবং মেডট্রনিক পিএলসি ও ইন্টেল করপোরেশনের সাবেক চেয়ারম্যান ডা. ওমর ইশরাক।এ ছাড়া আলোচনায় অংশ নেন মেডট্রনিক বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মায়াঙ্ক ত্রিপাঠী, জিই হেলথকেয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি হেড ও ডিরেক্টর মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান (রোমেল), বেকটন ডিকিনসনের বাংলাদেশ বিজনেস লিডার মির্জা সজীব রায়হান এবং অ্যামচ্যাম হেলথকেয়ার সাবকমিটির ইনচার্জ ডিরেক্টর ও ন্যাটকো বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আল-মামুন এম রাসেল।

আমি স্বাস্থ্যের প্রতিমন্ত্রী, হাসপাতালের নই: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী