Ctn Tv

হুথিদের ঠেকাতে সৌদি–পাকিস্তান–তুরস্কের সমন্বয়

হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত আরও জটিল হয়ে উঠছে। মক্কা চুক্তির অংশীদার সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সেনাপ্রধানদের বৈঠক এবং হুথিদের সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধের বার্তা আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সম্প্রতি সৌদি আরব জানিয়েছে, হুথিরা রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।হুথিরা সরকারি কর্মীদের বেতন পরিশোধ, ইয়েমেনের তেল ও গ্যাসের আয়ের একটি অংশ এবং তাদের নিয়ন্ত্রিত বন্দরগুলোর ওপর বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে। রাজনৈতিক সমঝোতায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে তারা সামরিক চাপও প্রয়োগ করছে। তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে সৌদি তেল কোম্পানি আরামকোর জিজান ও ইয়ানবুর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও রয়েছে।ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় সৌদি আরবকে ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করতে হচ্ছে। তুলনামূলক কম খরচের ড্রোন ধ্বংসে অত্যাধুনিক ইন্টারসেপ্টর ব্যবহারের ফলে দীর্ঘ মেয়াদে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে মিসর, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বিত প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে রিয়াদ।মক্কাকে লক্ষ্য করে হুথিদের হামলার চেষ্টার অভিযোগও পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করেছে। সৌদি আরবের দাবি, মক্কার দিকে আসা একটি ড্রোন তারা ধ্বংস করেছে। তবে হুথিরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পাকিস্তান সৌদি সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার করেছে।ইয়েমেন সংঘাতে ইরানের ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। তেহরান হুথিদের নিয়ন্ত্রণের কথা অস্বীকার করলেও বিভিন্ন সূত্র সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের নির্দেশের দাবি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েমেনের সংঘাতকে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৃহত্তর দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের বড় ধরনের স্থল অভিযান চালানোর সম্ভাবনা কম। বরং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে সীমিত ও নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলাই সম্ভাব্য কৌশল। ফলে ইয়েমেনের সংঘাত এখন শুধু সৌদি–হুথি লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই; লোহিত সাগরের নিরাপত্তা, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যের সঙ্গেও এটি জড়িয়ে পড়েছে।

হুথিদের ঠেকাতে সৌদি–পাকিস্তান–তুরস্কের সমন্বয়