Ctn Tv

মূল পাতা

অপরাধ

পদোন্নতি থেকে আবাসন প্রকল্প সবখানেই অনিয়, সাবেক সচিব নজরুল ইসলামকে ঘিরে তদন্তের দাবি

পদোন্নতি থেকে আবাসন প্রকল্প সবখানেই অনিয়,  সাবেক সচিব নজরুল ইসলামকে ঘিরে তদন্তের দাবি
সাবেক সচিব নজরুল ইসলাম। ছবি: সংগ্রহ

ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর নিজেকে বৈষম্যের শিকার দাবি করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে এক দিনে চারটি পদোন্নতি পেয়ে সচিব হওয়ার অভিযোগে আলোচনায় আসেন সাবেক সচিব নজরুল ইসলাম। কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার হরিপুর গ্রামের একটি নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা এই সাবেক আমলাকে ঘিরে এখন তাঁর পদোন্নতির প্রক্রিয়া, কথিত প্রভাবশালী বলয়ের কার্যক্রম, সম্পদ অর্জন এবং রাজধানীর কয়েকটি আবাসিক এলাকায় ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকালে নজরুল ইসলামকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী বলয় গড়ে ওঠে। এই বলয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে সরকারি দপ্তরে প্রভাব বিস্তার, বদলি ও পদায়নে সুবিধা আদায়, আত্মীয়স্বজনকে প্রশাসনিক সুযোগ পাইয়ে দেওয়া এবং বিভিন্ন ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভবন নির্মাণ ও ফ্ল্যাট বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজধানীর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডের তুষারধারা আবাসিক এলাকাসহ ঢাকা, কুমিল্লা ও বুড়িচংয়ে কথিত এই বলয়ের সদস্যদের নামে একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পদ বিবরণী, জমির দলিল, প্রতিষ্ঠানের মালিকানা, সরকারি নথি এবং আর্থিক লেনদেন যাচাই করা প্রয়োজন।

এক দিনে চার পদোন্নতি, কীভাবে সচিব হলেন নজরুল ইসলাম

অভিযোগকারীদের বর্ণনা অনুযায়ী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রশিবির সভাপতি হিসেবে পরিচিত নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষে বিসিএস ক্যাডারে যোগ দেন। ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে এক দিনে চারটি পদোন্নতি পেয়ে সচিব হওয়ার বিষয়টি তাঁর প্রশাসনিক উত্থান নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দেয়।

অভিযোগকারীদের দাবি, নিজেকে বৈষম্যের শিকার হিসেবে উপস্থাপন করে পদোন্নতির সুযোগ নেওয়ার পর তিনি বিভিন্ন সমিতি ও সংগঠনের ব্যানারে সরকারি দপ্তরের সভাকক্ষে সভা ও মিলনমেলার আয়োজন করতেন।

এসব সংগঠনের কয়েকটির পরিচয়, নিবন্ধন, কার্যক্রম এবং সরকারি দপ্তরের সভাকক্ষ ব্যবহারের অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।

তবে পদোন্নতির বিষয়ে নিশ্চিত হতে হলে সংশ্লিষ্ট আদেশের তারিখ, পদ, গ্রেড, পদোন্নতির ভিত্তি এবং প্রশাসনিক অনুমোদনের নথি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। একই দিনে চারটি পদোন্নতি কীভাবে দেওয়া হয়েছিল এবং তা কোন বিধি বা সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কার্যকর হয়েছিল, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নথি যাচাই ছাড়া তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

কথিত ‘ক্যাশিয়ার’ তোফায়েলকে ঘিরে নিয়োগের অভিযোগ

নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত তোফায়েলকে ঘিরেও বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের ভাষ্য, তোফায়েলকে নজরুল ইসলামের কথিত ‘ক্যাশিয়ার’ এবং সিন্ডিকেটের আর্থিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম সমন্বয়কারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

অভিযোগকারীদের দাবি, আর্টসের শিক্ষার্থী হয়েও তোফায়েল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অবৈধভাবে প্রোগ্রামার পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন। তবে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, নিয়োগ কমিটির সুপারিশ, অনুমোদন এবং চাকরিতে যোগদানের নথি যাচাই করা প্রয়োজন।

তোফায়েলের ছোট ভাই হাবিবুর রহমানকে নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে বুড়িচং উপজেলার আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ে নিজ গ্রাম যদুপুরে রাতের বেলায় মদ ও গাঁজার আসর বসাতেন তিনি। সরকার পরিবর্তনের পর তিনি জামায়াত-সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয় গ্রহণ করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া তোফায়েল বুড়িচংয়ে ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার সময় একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত ছিলেন এবং পরে মামলা থেকে তাঁর নাম বাদ পড়ে—এমন অভিযোগও তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তবে এ বিষয়ে মামলা, তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের নথি দেওয়া হয়নি। ফলে অভিযোগটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

শিক্ষা ভবনের কর্মচারী কবিরের পদায়ন নিয়ে প্রশ্ন

শিক্ষা ভবনের উন্নয়ন প্রকল্পের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে পরিচিত কবির আহমেদের পদোন্নতি ও পদায়ন নিয়েও অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, তৎকালীন মহাপরিচালক ফাহিমা খাতুনের সময়ে মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লাইব্রেরিয়ান হিসেবে কর্মরত তাঁর ভগ্নিপতি ইকবালের সহায়তায় কবির আহমেদ সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পদে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত হন।

এ ছাড়া গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব নজরুল ইসলামের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত কবির আহমেদকে নিজ উপজেলা বুড়িচংয়ে পদায়নের জন্য মান্নান নামের আরেক কর্মকর্তাকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। কবির আহমেদের আত্মীয়স্বজনদেরও বিভিন্ন সুবিধাজনক পদে পদায়ন করানোর অভিযোগ করেছেন অভিযোগকারীরা।

এসব অভিযোগ যাচাই করতে কবির আহমেদের নিয়োগ ও রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তির আদেশ, চাকরির যোগ্যতা, পদ সৃষ্টির অনুমোদন, বদলি-পদায়নের নথি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

তুষারধারায় ২৪ কাঠা জমিতে ভবন, রাজউকের বিধি মানা হয়েছে কি

নজরুল ইসলামকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজধানীর তুষারধারা আবাসিক এলাকার ১০ নম্বর সেক্টরের একটি বহুতল ভবন। অভিযোগকারীদের দাবি, সেখানে ২৪ কাঠা জমির ওপর তাঁর একটি বহুতল ভবন রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ভবনটির নির্মাণে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর), সেটব্যাকসহ প্রযোজ্য নির্মাণবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। অনুমোদিত নকশা ও নির্মাণ অনুমোদনের শর্ত পূরণ এবং অকুপেন্সি সনদ গ্রহণের আগেই ভবনটিতে বসবাস শুরু করার অভিযোগও রয়েছে।

তবে জমির মালিকানা, ভবনের মালিকানা বা অংশীদারত্ব এবং নির্মাণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়গুলো আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। এ জন্য জমির দলিল, অনুমোদিত ও সংশোধিত নকশা, নির্মাণকাজ পরিদর্শনের প্রতিবেদন এবং অকুপেন্সি সনদ পর্যালোচনা জরুরি।

ভবনটির অনুমোদিত নকশার সঙ্গে বাস্তব নির্মাণের অমিল রয়েছে কি না এবং থাকলে রাজউক কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট নথি থেকে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।

ফ্রেন্ডস ভিউ টাওয়ারে রাজউকের অভিযানের পর নির্মাণ সম্পন্নের অভিযোগ

তুষারধারা আবাসিক এলাকার ৯ নম্বর সেক্টরে বায়তুশ শরীয়ত মসজিদের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত ‘ফ্রেন্ডস ভিউ টাওয়ার’ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, ২০২২ সালে রাজউক ভবনটিতে অভিযান চালিয়ে কিছু অংশ ভেঙে দেয় এবং মুচলেকা নিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে নজরুল ইসলাম সচিব হওয়ার পর ভবনটির নির্মাণকাজ আবার সম্পন্ন করা হয় এবং অকুপেন্সি সনদ ছাড়াই সেখানে বসবাস শুরু হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

এসব অভিযোগ যাচাই করতে রাজউকের ২০২২ সালের অভিযানসংক্রান্ত নথি, ভাঙার আদেশ, মুচলেকা, নির্মাণ বন্ধ রাখার নির্দেশ, পরবর্তী পরিদর্শন প্রতিবেদন এবং ভবনটির বর্তমান অনুমোদনসংক্রান্ত তথ্য প্রয়োজন।

নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু হয়ে থাকলে তার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল কি না এবং ভবনটি ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় সনদ পেয়েছে কি না, তা-ও যাচাই করা দরকার।

মিশন সাগরিকা অ্যাপার্টমেন্টে পার্কিংয়ের জায়গায় দোকান-ফ্ল্যাট নির্মাণের অভিযোগ

তুষারধারা আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সেক্টরের ‘মিশন সাগরিকা অ্যাপার্টমেন্ট’ নিয়েও মালিকানা বিরোধ ও নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষা ভবনের উন্নয়ন প্রকল্পের কম্পিউটার অপারেটর আবু সেলিম ও মো. শাহাজাহান ২০১৭ সাল থেকে ভবনটির মালিকানা-সংক্রান্ত বিরোধ ও নির্মাণ অনিয়ম নিয়ে রাজউক এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দিয়ে আসছেন।

তাঁদের অভিযোগ, ২০১৯ ও ২০২২ সালে দুদকে করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জরিমানা ও মুচলেকা আদায় করে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে পার্কিংয়ের জায়গায় দোকান ও ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া একটি ফ্ল্যাট বিক্রির পর কাগজপত্র পরিবর্তনের কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।

এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে দুদকের অভিযোগের মূল কপি, সংশ্লিষ্ট তদন্ত বা মূল্যায়ন প্রতিবেদন, জরিমানা ও মুচলেকার নথি, অনুমোদিত নকশা, ফ্ল্যাটের দলিল এবং রাজউকের পরিদর্শন প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

ধানমন্ডিতে অফিসার্স কোয়ার্টার বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন

নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত বুড়িচংয়ের যদুপুর গ্রামের ওমর ফারুককে ধানমন্ডিতে অফিসার্স কোয়ার্টার বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।

অভিযোগ অনুযায়ী, ওমর ফারুক পলিটেকনিক্যালের কম্পিউটার-সংশ্লিষ্ট একটি পদে কর্মরত। তাঁকে বরাদ্দ দেওয়া আবাসনটি নিয়মবহির্ভূতভাবে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

সরকারি আবাসন বরাদ্দের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পদ, চাকরির ধরন, যোগ্যতা, প্রাপ্যতা এবং প্রযোজ্য নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। এ জন্য আবেদন, বরাদ্দপত্র এবং অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করতে হবে।

সম্পদ অর্জন ও নিয়োগ নিয়ে রফিক-তোফায়েল-মুমিন-হাবিবের বিরুদ্ধে অভিযোগ

অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, যদুপুর গ্রামের রফিক, তোফায়েল, মুমিন ও হাবিবকে নজরুল ইসলামকে ঘিরে থাকা কথিত বলয়ের সুবিধাভোগী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তাঁদের দাবি, প্রায় চার দশক আগে নোয়াখালী থেকে আসা এই পরিবারটি পরবর্তী সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছে। তবে সম্পদের পরিমাণ, মালিকানা ও অর্জনের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হতে জমির দলিল, আয়কর নথি, কোম্পানির মালিকানা এবং আর্থিক লেনদেন যাচাই করা প্রয়োজন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মুমিন ঘুষের বিনিময়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালকের পদ পেয়েছেন। অল্প সময়ে আদাবর, উত্তরা, বসুন্ধরা, কুমিল্লা, দৌলতপুর ও বুড়িচংয়ে প্লটের পাশাপাশি স্কুল ও হাসপাতালের মালিক হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এসব দাবির সত্যতা যাচাই করতে নিয়োগ-সংক্রান্ত নথি, সম্পদ বিবরণী, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন এবং জমির দলিল পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

এ ছাড়া মুমিনের আত্মীয় দ্বীন মোহাম্মদের ছেলে সোহেল রানাকে বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি দেওয়ার নামে ১১ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সিস্টেম অ্যানালিস্ট শাহিনের মাধ্যমে জালিয়াতি করে নিয়োগ-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করা হয়। এ অভিযোগের বিষয়ে কোনো নিয়োগ নথি, আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কাজী মামনের বিরুদ্ধে ফ্ল্যাটের মালিকানা ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ

খিলক্ষেতের স্টক এক্সচেঞ্জে কর্মরত কাজী মামনের নামও অভিযোগে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সাবেক সচিব নজরুল ইসলামকে ঘিরে থাকা বলয়ের সহায়তায় তিনি একাধিক ভবনের ফ্ল্যাটের মালিক হয়েছেন।

তাঁদের অভিযোগ, মামন নিজেকে নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিয়ে ছবি দেখিয়ে অবৈধ দখল, বদলি-বাণিজ্য ও ঠিকাদারি কাজের তদবির করতেন।

তবে এসব দাবির সত্যতা যাচাইয়ে তাঁর সম্পদ অর্জনের উৎস, সংশ্লিষ্ট ফ্ল্যাটের দলিল, চাকরি থেকে প্রাপ্ত আয়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক এবং কথিত তদবিরের বিষয়ে প্রমাণ পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনগুলোর ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি

অভিযোগকারীরা নজরুল ইসলামকে ঘিরে থাকা কথিত বলয়ের সঙ্গে বিভিন্ন ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান, সংগঠন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করেছেন। তাঁদের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো কোনোটি ভবন নির্মাণ, সম্পদ অর্জন এবং প্রশাসনিক সুবিধা গ্রহণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

তালিকায় রয়েছে—কনটেক ডেভেলপার, ওয়নল্যান্ড ডেভেলপার, কনফিডেন্স গ্রুপ, রোজ গার্ডেন অ্যাসোসিয়েশন, মিশন ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট, বুড়িচং পলিটেকনিক, বুড়িচং আধুনিক হাসপাতাল, বুড়িচং ওয়েলফেয়ার সোসাইটি, রওশন-সিরাজ ফাউন্ডেশন, মিশন শ্যামলিমা, মিশন লাইট হাউজ, মিশন গার্ডেন ঢাকা এবং কনফিডেন্স সফটওয়্যার।

অভিযোগকারীদের দাবি, বুড়িচং ওয়েলফেয়ার সোসাইটি তুষারধারা আবাসিক এলাকার একটি ঠিকানা ব্যবহার করে দীর্ঘদিন আড়ালে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এ ছাড়া কথিত ভুয়া ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের নামে ভবন নির্মাণ, কাগজপত্রে অসংগতি এবং ফ্ল্যাট বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।

তবে তালিকাভুক্ত সব প্রতিষ্ঠানকে একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত বলা যায় না। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, পরিচালনা পর্ষদ, প্রকৃত মালিকানা, ব্যবসায়িক কার্যক্রম, কর-সংক্রান্ত নথি এবং সংশ্লিষ্ট ভবনের অনুমোদন আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

সম্পদ বিবরণী ও আর্থিক লেনদেন তদন্তের দাবি

অভিযোগকারীদের দাবি, কথিত বলয়ের সদস্যদের ঢাকা, কুমিল্লা ও বুড়িচংয়ে একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট এবং ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভবন নির্মাণ, ফ্ল্যাট বিক্রির সময় কাগজপত্র পরিবর্তন এবং সাধারণ ক্রেতাদের আর্থিক ক্ষতির কারণ হওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।

অভিযোগগুলো সত্য হলে এর সঙ্গে সরকারি দায়িত্বের অপব্যবহার, নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বিধি প্রয়োগ, আবাসন খাতে ক্রেতাদের অধিকার এবং সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি পালনের প্রশ্ন জড়িত হতে পারে।

এ কারণে অভিযোগকারীরা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পদ অর্জনের উৎস, আয়কর রিটার্ন, আয়-ব্যয়ের সামঞ্জস্য, কোম্পানির শেয়ার ও পরিচালনা পর্ষদে তাঁদের অবস্থান, জমির দলিল এবং ফ্ল্যাট বিক্রির নথি সমন্বিতভাবে পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

সাবেক সচিব নজরুল ইসলাম এবং তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিদের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বর্তমান মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন অভিযোগকারীরা। একই সঙ্গে রাজউকের অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকা ভবনগুলো পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

অভিযোগকারীদের প্রস্তাবিত তদন্তের বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে নজরুল ইসলামের পদোন্নতি-সংক্রান্ত আদেশ ও প্রশাসনিক নথি যাচাই; তুষারধারার ১০ নম্বর সেক্টরের ২৪ কাঠা জমির ওপর নির্মিত ভবন, ফ্রেন্ডস ভিউ টাওয়ার এবং মিশন সাগরিকা অ্যাপার্টমেন্টের অনুমোদিত নকশা, বাস্তব নির্মাণ ও অকুপেন্সি সনদ পরীক্ষা।

এ ছাড়া ফ্রেন্ডস ভিউ টাওয়ারে ২০২২ সালের রাজউক অভিযানের পর নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু হয়ে থাকলে তার অনুমোদন ও আইনগত ভিত্তি যাচাই, মিশন সাগরিকা অ্যাপার্টমেন্ট নিয়ে ২০১৭, ২০১৯ ও ২০২২ সালের অভিযোগের নথি পর্যালোচনা এবং কবির আহমেদের নিয়োগ, রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তি ও বদলি-পদায়নের বৈধতা পরীক্ষা করার দাবি রয়েছে।

ওমর ফারুকের ধানমন্ডির অফিসার্স কোয়ার্টার বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর নিবন্ধন ও মালিকানা কী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পদের উৎস তাঁদের সরকারি আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা-ও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

তাঁদের মতে, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রশাসনিক, দেওয়ানি বা ফৌজদারি ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত ফ্ল্যাট ক্রেতাদের অভিযোগ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নথি ও বক্তব্য জরুরি

একজন সরকারি কর্মকর্তার পদোন্নতি, সম্পদ অর্জন কিংবা কোনো ভবনের মালিক হওয়া নিজে থেকেই অপরাধের প্রমাণ নয়। তবে সরকারি পদে থেকে প্রভাব খাটানো, বিধিবহির্ভূত নির্মাণে সহায়তা, অবৈধ সম্পদ অর্জন কিংবা নিয়োগ ও বদলি-পদায়নে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে সেগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।

সাবেক সচিব নজরুল ইসলামকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোর ক্ষেত্রেও পদোন্নতির আদেশ, সম্পদ বিবরণী, নিয়োগ ও পদায়নের নথি, জমির দলিল, ভবনের অনুমোদিত নকশা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি অভিযোগে নাম আসা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য নেওয়া এবং তাঁদের জবাব প্রকাশ করা জরুরি।

জনস্বার্থে এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নথিভিত্তিক তদন্ত করবে কি না এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই অভিযোগ ও বাস্তবতার পার্থক্য স্পষ্ট হতে পারে।

সাবেক সচিব নজরুল ইসলাম প্রশাসনিক পদোন্নতি দুর্নীতির অভিযোগ

আপনার মতামত লিখুন

পদোন্নতি থেকে আবাসন প্রকল্প সবখানেই অনিয়, সাবেক সচিব নজরুল ইসলামকে ঘিরে তদন্তের দাবি
0:00 0:00
1.0x
Ctn Tv

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬


পদোন্নতি থেকে আবাসন প্রকল্প সবখানেই অনিয়, সাবেক সচিব নজরুল ইসলামকে ঘিরে তদন্তের দাবি

প্রকাশের তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর নিজেকে বৈষম্যের শিকার দাবি করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে এক দিনে চারটি পদোন্নতি পেয়ে সচিব হওয়ার অভিযোগে আলোচনায় আসেন সাবেক সচিব নজরুল ইসলাম। কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার হরিপুর গ্রামের একটি নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা এই সাবেক আমলাকে ঘিরে এখন তাঁর পদোন্নতির প্রক্রিয়া, কথিত প্রভাবশালী বলয়ের কার্যক্রম, সম্পদ অর্জন এবং রাজধানীর কয়েকটি আবাসিক এলাকায় ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকালে নজরুল ইসলামকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী বলয় গড়ে ওঠে। এই বলয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে সরকারি দপ্তরে প্রভাব বিস্তার, বদলি ও পদায়নে সুবিধা আদায়, আত্মীয়স্বজনকে প্রশাসনিক সুযোগ পাইয়ে দেওয়া এবং বিভিন্ন ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভবন নির্মাণ ও ফ্ল্যাট বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজধানীর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডের তুষারধারা আবাসিক এলাকাসহ ঢাকা, কুমিল্লা ও বুড়িচংয়ে কথিত এই বলয়ের সদস্যদের নামে একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পদ বিবরণী, জমির দলিল, প্রতিষ্ঠানের মালিকানা, সরকারি নথি এবং আর্থিক লেনদেন যাচাই করা প্রয়োজন।

এক দিনে চার পদোন্নতি, কীভাবে সচিব হলেন নজরুল ইসলাম

অভিযোগকারীদের বর্ণনা অনুযায়ী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রশিবির সভাপতি হিসেবে পরিচিত নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষে বিসিএস ক্যাডারে যোগ দেন। ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে এক দিনে চারটি পদোন্নতি পেয়ে সচিব হওয়ার বিষয়টি তাঁর প্রশাসনিক উত্থান নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দেয়।

অভিযোগকারীদের দাবি, নিজেকে বৈষম্যের শিকার হিসেবে উপস্থাপন করে পদোন্নতির সুযোগ নেওয়ার পর তিনি বিভিন্ন সমিতি ও সংগঠনের ব্যানারে সরকারি দপ্তরের সভাকক্ষে সভা ও মিলনমেলার আয়োজন করতেন।

এসব সংগঠনের কয়েকটির পরিচয়, নিবন্ধন, কার্যক্রম এবং সরকারি দপ্তরের সভাকক্ষ ব্যবহারের অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।

তবে পদোন্নতির বিষয়ে নিশ্চিত হতে হলে সংশ্লিষ্ট আদেশের তারিখ, পদ, গ্রেড, পদোন্নতির ভিত্তি এবং প্রশাসনিক অনুমোদনের নথি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। একই দিনে চারটি পদোন্নতি কীভাবে দেওয়া হয়েছিল এবং তা কোন বিধি বা সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কার্যকর হয়েছিল, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নথি যাচাই ছাড়া তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

কথিত ‘ক্যাশিয়ার’ তোফায়েলকে ঘিরে নিয়োগের অভিযোগ

নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত তোফায়েলকে ঘিরেও বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের ভাষ্য, তোফায়েলকে নজরুল ইসলামের কথিত ‘ক্যাশিয়ার’ এবং সিন্ডিকেটের আর্থিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম সমন্বয়কারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

অভিযোগকারীদের দাবি, আর্টসের শিক্ষার্থী হয়েও তোফায়েল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অবৈধভাবে প্রোগ্রামার পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন। তবে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, নিয়োগ কমিটির সুপারিশ, অনুমোদন এবং চাকরিতে যোগদানের নথি যাচাই করা প্রয়োজন।

তোফায়েলের ছোট ভাই হাবিবুর রহমানকে নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে বুড়িচং উপজেলার আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ে নিজ গ্রাম যদুপুরে রাতের বেলায় মদ ও গাঁজার আসর বসাতেন তিনি। সরকার পরিবর্তনের পর তিনি জামায়াত-সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয় গ্রহণ করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া তোফায়েল বুড়িচংয়ে ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার সময় একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত ছিলেন এবং পরে মামলা থেকে তাঁর নাম বাদ পড়ে—এমন অভিযোগও তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তবে এ বিষয়ে মামলা, তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের নথি দেওয়া হয়নি। ফলে অভিযোগটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

শিক্ষা ভবনের কর্মচারী কবিরের পদায়ন নিয়ে প্রশ্ন

শিক্ষা ভবনের উন্নয়ন প্রকল্পের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে পরিচিত কবির আহমেদের পদোন্নতি ও পদায়ন নিয়েও অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, তৎকালীন মহাপরিচালক ফাহিমা খাতুনের সময়ে মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লাইব্রেরিয়ান হিসেবে কর্মরত তাঁর ভগ্নিপতি ইকবালের সহায়তায় কবির আহমেদ সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পদে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত হন।

এ ছাড়া গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব নজরুল ইসলামের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত কবির আহমেদকে নিজ উপজেলা বুড়িচংয়ে পদায়নের জন্য মান্নান নামের আরেক কর্মকর্তাকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। কবির আহমেদের আত্মীয়স্বজনদেরও বিভিন্ন সুবিধাজনক পদে পদায়ন করানোর অভিযোগ করেছেন অভিযোগকারীরা।

এসব অভিযোগ যাচাই করতে কবির আহমেদের নিয়োগ ও রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তির আদেশ, চাকরির যোগ্যতা, পদ সৃষ্টির অনুমোদন, বদলি-পদায়নের নথি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

তুষারধারায় ২৪ কাঠা জমিতে ভবন, রাজউকের বিধি মানা হয়েছে কি

নজরুল ইসলামকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজধানীর তুষারধারা আবাসিক এলাকার ১০ নম্বর সেক্টরের একটি বহুতল ভবন। অভিযোগকারীদের দাবি, সেখানে ২৪ কাঠা জমির ওপর তাঁর একটি বহুতল ভবন রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ভবনটির নির্মাণে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর), সেটব্যাকসহ প্রযোজ্য নির্মাণবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। অনুমোদিত নকশা ও নির্মাণ অনুমোদনের শর্ত পূরণ এবং অকুপেন্সি সনদ গ্রহণের আগেই ভবনটিতে বসবাস শুরু করার অভিযোগও রয়েছে।

তবে জমির মালিকানা, ভবনের মালিকানা বা অংশীদারত্ব এবং নির্মাণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়গুলো আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। এ জন্য জমির দলিল, অনুমোদিত ও সংশোধিত নকশা, নির্মাণকাজ পরিদর্শনের প্রতিবেদন এবং অকুপেন্সি সনদ পর্যালোচনা জরুরি।

ভবনটির অনুমোদিত নকশার সঙ্গে বাস্তব নির্মাণের অমিল রয়েছে কি না এবং থাকলে রাজউক কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট নথি থেকে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।

ফ্রেন্ডস ভিউ টাওয়ারে রাজউকের অভিযানের পর নির্মাণ সম্পন্নের অভিযোগ

তুষারধারা আবাসিক এলাকার ৯ নম্বর সেক্টরে বায়তুশ শরীয়ত মসজিদের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত ‘ফ্রেন্ডস ভিউ টাওয়ার’ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, ২০২২ সালে রাজউক ভবনটিতে অভিযান চালিয়ে কিছু অংশ ভেঙে দেয় এবং মুচলেকা নিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে নজরুল ইসলাম সচিব হওয়ার পর ভবনটির নির্মাণকাজ আবার সম্পন্ন করা হয় এবং অকুপেন্সি সনদ ছাড়াই সেখানে বসবাস শুরু হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

এসব অভিযোগ যাচাই করতে রাজউকের ২০২২ সালের অভিযানসংক্রান্ত নথি, ভাঙার আদেশ, মুচলেকা, নির্মাণ বন্ধ রাখার নির্দেশ, পরবর্তী পরিদর্শন প্রতিবেদন এবং ভবনটির বর্তমান অনুমোদনসংক্রান্ত তথ্য প্রয়োজন।

নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু হয়ে থাকলে তার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল কি না এবং ভবনটি ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় সনদ পেয়েছে কি না, তা-ও যাচাই করা দরকার।

মিশন সাগরিকা অ্যাপার্টমেন্টে পার্কিংয়ের জায়গায় দোকান-ফ্ল্যাট নির্মাণের অভিযোগ

তুষারধারা আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সেক্টরের ‘মিশন সাগরিকা অ্যাপার্টমেন্ট’ নিয়েও মালিকানা বিরোধ ও নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষা ভবনের উন্নয়ন প্রকল্পের কম্পিউটার অপারেটর আবু সেলিম ও মো. শাহাজাহান ২০১৭ সাল থেকে ভবনটির মালিকানা-সংক্রান্ত বিরোধ ও নির্মাণ অনিয়ম নিয়ে রাজউক এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দিয়ে আসছেন।

তাঁদের অভিযোগ, ২০১৯ ও ২০২২ সালে দুদকে করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জরিমানা ও মুচলেকা আদায় করে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে পার্কিংয়ের জায়গায় দোকান ও ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া একটি ফ্ল্যাট বিক্রির পর কাগজপত্র পরিবর্তনের কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।

এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে দুদকের অভিযোগের মূল কপি, সংশ্লিষ্ট তদন্ত বা মূল্যায়ন প্রতিবেদন, জরিমানা ও মুচলেকার নথি, অনুমোদিত নকশা, ফ্ল্যাটের দলিল এবং রাজউকের পরিদর্শন প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

ধানমন্ডিতে অফিসার্স কোয়ার্টার বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন

নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত বুড়িচংয়ের যদুপুর গ্রামের ওমর ফারুককে ধানমন্ডিতে অফিসার্স কোয়ার্টার বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।

অভিযোগ অনুযায়ী, ওমর ফারুক পলিটেকনিক্যালের কম্পিউটার-সংশ্লিষ্ট একটি পদে কর্মরত। তাঁকে বরাদ্দ দেওয়া আবাসনটি নিয়মবহির্ভূতভাবে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

সরকারি আবাসন বরাদ্দের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পদ, চাকরির ধরন, যোগ্যতা, প্রাপ্যতা এবং প্রযোজ্য নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। এ জন্য আবেদন, বরাদ্দপত্র এবং অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করতে হবে।

সম্পদ অর্জন ও নিয়োগ নিয়ে রফিক-তোফায়েল-মুমিন-হাবিবের বিরুদ্ধে অভিযোগ

অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, যদুপুর গ্রামের রফিক, তোফায়েল, মুমিন ও হাবিবকে নজরুল ইসলামকে ঘিরে থাকা কথিত বলয়ের সুবিধাভোগী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তাঁদের দাবি, প্রায় চার দশক আগে নোয়াখালী থেকে আসা এই পরিবারটি পরবর্তী সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছে। তবে সম্পদের পরিমাণ, মালিকানা ও অর্জনের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হতে জমির দলিল, আয়কর নথি, কোম্পানির মালিকানা এবং আর্থিক লেনদেন যাচাই করা প্রয়োজন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মুমিন ঘুষের বিনিময়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালকের পদ পেয়েছেন। অল্প সময়ে আদাবর, উত্তরা, বসুন্ধরা, কুমিল্লা, দৌলতপুর ও বুড়িচংয়ে প্লটের পাশাপাশি স্কুল ও হাসপাতালের মালিক হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এসব দাবির সত্যতা যাচাই করতে নিয়োগ-সংক্রান্ত নথি, সম্পদ বিবরণী, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন এবং জমির দলিল পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

এ ছাড়া মুমিনের আত্মীয় দ্বীন মোহাম্মদের ছেলে সোহেল রানাকে বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি দেওয়ার নামে ১১ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সিস্টেম অ্যানালিস্ট শাহিনের মাধ্যমে জালিয়াতি করে নিয়োগ-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করা হয়। এ অভিযোগের বিষয়ে কোনো নিয়োগ নথি, আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কাজী মামনের বিরুদ্ধে ফ্ল্যাটের মালিকানা ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ

খিলক্ষেতের স্টক এক্সচেঞ্জে কর্মরত কাজী মামনের নামও অভিযোগে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সাবেক সচিব নজরুল ইসলামকে ঘিরে থাকা বলয়ের সহায়তায় তিনি একাধিক ভবনের ফ্ল্যাটের মালিক হয়েছেন।

তাঁদের অভিযোগ, মামন নিজেকে নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিয়ে ছবি দেখিয়ে অবৈধ দখল, বদলি-বাণিজ্য ও ঠিকাদারি কাজের তদবির করতেন।

তবে এসব দাবির সত্যতা যাচাইয়ে তাঁর সম্পদ অর্জনের উৎস, সংশ্লিষ্ট ফ্ল্যাটের দলিল, চাকরি থেকে প্রাপ্ত আয়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক এবং কথিত তদবিরের বিষয়ে প্রমাণ পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনগুলোর ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি

অভিযোগকারীরা নজরুল ইসলামকে ঘিরে থাকা কথিত বলয়ের সঙ্গে বিভিন্ন ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান, সংগঠন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করেছেন। তাঁদের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো কোনোটি ভবন নির্মাণ, সম্পদ অর্জন এবং প্রশাসনিক সুবিধা গ্রহণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

তালিকায় রয়েছে—কনটেক ডেভেলপার, ওয়নল্যান্ড ডেভেলপার, কনফিডেন্স গ্রুপ, রোজ গার্ডেন অ্যাসোসিয়েশন, মিশন ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট, বুড়িচং পলিটেকনিক, বুড়িচং আধুনিক হাসপাতাল, বুড়িচং ওয়েলফেয়ার সোসাইটি, রওশন-সিরাজ ফাউন্ডেশন, মিশন শ্যামলিমা, মিশন লাইট হাউজ, মিশন গার্ডেন ঢাকা এবং কনফিডেন্স সফটওয়্যার।

অভিযোগকারীদের দাবি, বুড়িচং ওয়েলফেয়ার সোসাইটি তুষারধারা আবাসিক এলাকার একটি ঠিকানা ব্যবহার করে দীর্ঘদিন আড়ালে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এ ছাড়া কথিত ভুয়া ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের নামে ভবন নির্মাণ, কাগজপত্রে অসংগতি এবং ফ্ল্যাট বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।

তবে তালিকাভুক্ত সব প্রতিষ্ঠানকে একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত বলা যায় না। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, পরিচালনা পর্ষদ, প্রকৃত মালিকানা, ব্যবসায়িক কার্যক্রম, কর-সংক্রান্ত নথি এবং সংশ্লিষ্ট ভবনের অনুমোদন আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

সম্পদ বিবরণী ও আর্থিক লেনদেন তদন্তের দাবি

অভিযোগকারীদের দাবি, কথিত বলয়ের সদস্যদের ঢাকা, কুমিল্লা ও বুড়িচংয়ে একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট এবং ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভবন নির্মাণ, ফ্ল্যাট বিক্রির সময় কাগজপত্র পরিবর্তন এবং সাধারণ ক্রেতাদের আর্থিক ক্ষতির কারণ হওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।

অভিযোগগুলো সত্য হলে এর সঙ্গে সরকারি দায়িত্বের অপব্যবহার, নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বিধি প্রয়োগ, আবাসন খাতে ক্রেতাদের অধিকার এবং সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি পালনের প্রশ্ন জড়িত হতে পারে।

এ কারণে অভিযোগকারীরা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পদ অর্জনের উৎস, আয়কর রিটার্ন, আয়-ব্যয়ের সামঞ্জস্য, কোম্পানির শেয়ার ও পরিচালনা পর্ষদে তাঁদের অবস্থান, জমির দলিল এবং ফ্ল্যাট বিক্রির নথি সমন্বিতভাবে পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

সাবেক সচিব নজরুল ইসলাম এবং তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিদের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বর্তমান মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন অভিযোগকারীরা। একই সঙ্গে রাজউকের অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকা ভবনগুলো পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

অভিযোগকারীদের প্রস্তাবিত তদন্তের বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে নজরুল ইসলামের পদোন্নতি-সংক্রান্ত আদেশ ও প্রশাসনিক নথি যাচাই; তুষারধারার ১০ নম্বর সেক্টরের ২৪ কাঠা জমির ওপর নির্মিত ভবন, ফ্রেন্ডস ভিউ টাওয়ার এবং মিশন সাগরিকা অ্যাপার্টমেন্টের অনুমোদিত নকশা, বাস্তব নির্মাণ ও অকুপেন্সি সনদ পরীক্ষা।

এ ছাড়া ফ্রেন্ডস ভিউ টাওয়ারে ২০২২ সালের রাজউক অভিযানের পর নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু হয়ে থাকলে তার অনুমোদন ও আইনগত ভিত্তি যাচাই, মিশন সাগরিকা অ্যাপার্টমেন্ট নিয়ে ২০১৭, ২০১৯ ও ২০২২ সালের অভিযোগের নথি পর্যালোচনা এবং কবির আহমেদের নিয়োগ, রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তি ও বদলি-পদায়নের বৈধতা পরীক্ষা করার দাবি রয়েছে।

ওমর ফারুকের ধানমন্ডির অফিসার্স কোয়ার্টার বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর নিবন্ধন ও মালিকানা কী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পদের উৎস তাঁদের সরকারি আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা-ও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

তাঁদের মতে, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রশাসনিক, দেওয়ানি বা ফৌজদারি ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত ফ্ল্যাট ক্রেতাদের অভিযোগ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নথি ও বক্তব্য জরুরি

একজন সরকারি কর্মকর্তার পদোন্নতি, সম্পদ অর্জন কিংবা কোনো ভবনের মালিক হওয়া নিজে থেকেই অপরাধের প্রমাণ নয়। তবে সরকারি পদে থেকে প্রভাব খাটানো, বিধিবহির্ভূত নির্মাণে সহায়তা, অবৈধ সম্পদ অর্জন কিংবা নিয়োগ ও বদলি-পদায়নে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে সেগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।

সাবেক সচিব নজরুল ইসলামকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোর ক্ষেত্রেও পদোন্নতির আদেশ, সম্পদ বিবরণী, নিয়োগ ও পদায়নের নথি, জমির দলিল, ভবনের অনুমোদিত নকশা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি অভিযোগে নাম আসা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য নেওয়া এবং তাঁদের জবাব প্রকাশ করা জরুরি।

জনস্বার্থে এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নথিভিত্তিক তদন্ত করবে কি না এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই অভিযোগ ও বাস্তবতার পার্থক্য স্পষ্ট হতে পারে।


Ctn Tv



কপিরাইট © ২০২৬ Ctn Tv । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত